পহেলা বৈশাখ আসবে আর ইলিশের স্বাদ নেবে না বাঙালি, এমনটা হতে পারে না। পছন্দের রেস্তোরাঁয় ঘুরে সেদিন দেশীয় স্বাদের খাবারটাই খুঁজে ফেরেন ভোজনরসিকেরা। দোরগোড়ায় নববর্ষ, রঙে রঙে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সারাদেশ। বর্ষবরণের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশীয় খাবারের জন্য অদ্বিতীয় রেস্তোরাঁ বাবুর্চিও। যাত্রা শুরুর পর থেকেই বাবুর্চির খাবার ভোজনরসিকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নেয়। বরাবরের মতোই বৈশাখে তাদের খাবারের বিশেষ আয়োজন দেখতে হাজির হয়েছিলাম
আমরা। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও
ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
ধানমন্ডি রাইফেলস স্কয়ার থেকে কিছুটা সামনে এগোলেই বাবুর্চি। দ্বিতীয় আর তৃতীয় তলায় প্রায় একশ চল্লিশ জন একসাথে বসার আয়োজন রয়েছে এই রেস্তোরাঁয়। মনকাড়া অন্দরসজ্জা, সেই সাথে আলো-আঁধারীর মিশেল। বাবুর্চির ম্যানেজার মিজানুর রহমান মিন্টু জানাচ্ছিলেন বাবুর্চির শুরুর দিককার কথা। দেশীয় খাবারের ভিন্ন উপস্থাপন থাকবে সব সময়, এই ছিল মূল চিন্তা। বাঙালি যেহেতু ভোজনরসিক জাতি, দেশীয়র পাশাপাশি উপমহাদেশের বিভিন্ন খাবার, এমনকি থাই চাইনিজেরও রয়েছে সুব্যবস্থা।
পহেলা বৈশাখের দিন কেমন আয়োজন রয়েছে বাবুর্চির? স্বভাবতই সেদিন ভিড় অন্যদিনের চেয়ে বেশি থাকায় আয়োজন করা হয়েছে কিছু সেট মেন্যুর। যোগ হবে নিত্যনতুন স্বাদের ভর্তা আর সালাদ। এসবের দাম শুরু হবে দুইশ টাকা থেকেই। আয়োজনে থাকবে ইলিশের নানান রকম উপস্থাপন। গরম ইলিশ ভাজার সাথে থাকবে খিচুড়ি, পোলাও, কাচ্চি অথবা গরম ভাত। এবারের নববর্ষে চাইলেই তাই ইলিশের স্বাদ নিতে ঢু মেরে যেতে পারেন বাবুর্চিতে। গরম ভাত, ভর্তার সাথে ইলিশ ভাজা আর পোড়া মরিচের তুলনা চলে না কোনো কিছুর সাথেই।
এর বাইরেও থাকবে হরেক খাবারের আয়োজন। মাটন, বিফ, চিকেনের পছন্দের অনেক পরিবেশন পেয়ে যাবেন বাবুর্চিতে। থাকবে তাদের বিখ্যাত কাচ্চি বিরিয়ানিও। চলুন জেনে নিই বাবুর্চির নিয়মিত খাবারদাবারের তালিকা। বিরিয়ানি, খিচুরির জন্য বিখ্যাত এই রেস্তোরাঁয় পাবেন শাহী কাচ্ছি বিরিয়ানি, চিকেন ঝাল ফ্রাই বিরিয়ানি, কলিজা ভুনা খিচুরি, মোরগ পোলাউ, হায়দরাবাদী দম বিরিয়ানি। দামটাও খুব বেশি নয়, এই খাবারগুলোর দাম ১৬০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকার মাঝেই। আলু, ডিম, টমেটো, ডাল, ইলিশ, চিংড়ির হরেক রকমক ভর্তা রয়েছে এখানে, সেগুলোর সবই ৯০ টাকার ভেতরে পাবেন। যারা মুড়িঘন্ট খেতে খুব ভালোবাসেন, স্বাদ নিতে পারেন বাবুর্চির এই খাবারেরও। বিরিয়ানি বা পোলাউ ছাড়াও সাদা ভাতের সাথে থাকে বিভিন্ন রকম মাছ আর মাংস। এসবের দাম রাখা হয়েছে ১২০ থেকে শুরু করে ২৬০ টাকার মাঝে।
দেশীয় খাবারের পাশাপাশি বাবুর্চিতে থাকে থাই ও চাইনিজ নানান খাবারের সমারোহ। পছন্দ আপনার, সেই অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে অল্প সময়েই পেয়ে যাবেন জিভে জল আনা সব খাবার। বাবুর্চি প্রতিদিনই খোলা থাকে সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা অবধি। দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই আসেন তাদের খাবারের স্বাদ নিতে। ছোট কোনো অনুষ্ঠান করতে চাইলে আগেই জানাতে হবে আপনাকে, দরকার নেই এ জন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ। খাওয়া শেষে বাবুর্চির নানা ডেজার্ট থেকে নিজের পছন্দেরটা খেয়ে আসতে ভুলবেন না। একবার খেলে স্বাদ লেগে থাকবে মুখে। আর মুভেনপিকের আইসক্রিম তো আছেই। এবার তাই পহেলা বৈশাখে বৈশাখী সাজে হাজির হয়ে যান বাবুর্চিতে, তারা আছে আপনাকে বরণের অপেক্ষায়।
