লোহাগাড়ায় খালগুলো পানিশূন্য সেচ সংকটে বোরো জমি

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৬
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ডলু, টংকা, হাঙ্গর, চাম্বি ও হাতিয়ারসহ অন্যান্য খাল এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে খালপাড়ের শত শত হেক্টর বোরো জমি সেচ সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে, পানির অভাবে টংকাবতী সেচ প্রকল্প এলাকার ৭ শতাধিক হেক্টর বোরো জমি সেচ সমস্যায় পড়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি বছর সেচ সংকটের কারণে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর অনাবাদী থাকে। গত ৪১ বছরেও উপজেলার খালগুলো খনন না হওয়ায় বোরো মৌসুমে শুকিয়ে যায় আর বর্ষা মৌসুমে এলাকা পানিতে ডুবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ফলে প্রতি বছর ফসল উত্পাদন হ্রাস পেয়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। ২০১১-’১২ সালে খাদ্য ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ৫শ’ টন। দেখা গেছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাল ডলু, টংকা, হাঙ্গর, চাম্বিসহ অন্যান্য খাল শুকিয়ে গিয়ে বালুর স্তর পড়েছে। কোন কোন স্থানে খাল ভরাট হয়ে খালবুক ও খালপাড় সমান হয়ে গেছে। এ সুযোগে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা এবং খালের বালুরচরে ছেলেরা খেলছে ফুটবল-ক্রিকেট। এলাকাবাসীরা জানায়, শুষ্ক মৌসুমে খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো জমি সেচ সংকটে পড়ে। ফলে বোরো চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। জানা যায়, খালের তীরবর্তী ৩৫টি গ্রামের ৪০ হাজার পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল। খালগুলো ভরাট, বেদখল, নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় আমন ও বোরো চাষসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে এ বছর লোহাগাড়ায় ৩ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। গত বছর বোরো চাষ হয়েছে ৪ হাজার ১শ’ হেক্টর। উপজেলার চুনতি পানত্রিশা এলাকার চাম্বি খালে, আধুনগরের ডলুখালে ও পদুয়ার হাঙ্গরখালে ৩টি সেচ প্রকল্প হলে আরো ১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ বেড়ে যাবে। উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডলু, টংকাসহ অন্যান্য খাল খননবিহীন থাকায় কৃষকরা পানির অভাবে বোরো চাষ করতে পারছে না। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানির উত্স কমে যাওয়া ও বোরো চাষে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছর বোরো চাষ হ্রাস পাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিজনুর রহমান জানান, পানির স্বল্পতা, কৃষি কাজে কৃষকের অনীহা ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এ উপজেলায় বহু আবাদযোগ্য জমি অনাবাদী রয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাল ডলু-টংকাসহ অন্যান্য খাল ও ঝিরি খনন কিংবা সংস্কার এবং টংকাবতী সেচ প্রকল্পটি বৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি হয়নি। অথচ মাটির গঠনগত দিক ও ভূ-প্রকৃতিভাবে এ উপজেলায় বৈচিত্র্যময় ফসল উত্পাদন সম্ভব। ডলু-টংকাসহ অন্যান্য খালে একাধিক সেচ প্রকল্প স্থাপন, মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং উপজেলার খাল ও ঝিরিগুলো পুনঃখনন করে পানির সংকট দূরীকরণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।