অর্ধশত সিনিয়র নেতা জেলে অনড় খালেদা জিয়া

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৫
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের অর্ধশত সিনিয়র নেতা এখন কারারুদ্ধ। তাদের নামে প্রায় পাঁচ শত মামলার বেড়াজাল। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় দলের পয়লা এবং মধ্যম সারির কেউ বাইরে নেই। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামেও ৫টি মামলা। দলের স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে ৪ জন বাদে সকলের নামে একাধিক মামলা আছে। ভাইস-চেয়ারম্যান এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টাদের মধ্যে যারাই রাজপথে সক্রিয় তারা মামলার খড়গ থেকে নিষ্কৃতিতে নেই। কেউ জামিনে আবার কেউ জেলবন্দী। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে গাড়ি পোড়ানো, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মানহানিসহ হরেক রকম অভিযোগ আনা হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর রায়, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ বিএনপির শীর্ষ ১০ নেতাকে জেলহাজতে পাঠানোয় দলটি আবার চাপের মুখে পড়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এনিয়ে মোটেই চিন্তিত নন। রাজনীতি ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রশ্নে তিনি অনড়। তিনি জানেন, রাজনীতির পথ কুসুমাস্তীর্ণ হয় না কখনো। তাই তিনি প্রতিদিনই দল ও ১৮ দলীয় জোট নেতা-কর্মীদের নির্দেশ-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে কারো কারো মতে, এ অবস্থায় কর্মসূচি সফল করতে ১৮ দলীয় জোটে থাকা জামায়াতের ওপর এখন ভরসা বাড়াতে হচ্ছে। গত ১১ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৫৪ নেতাকে গ্রেফতার করে। অত:পর মির্জা ফখরুলসহ তিন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ফলে আন্দোলনের কর্মসূচি পালনে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি গত ২৬ দিন; কিন্তু ১০ সিনিয়র নেতাকে ৭ এপ্রিল জেলে ঢুকানোর পর পরিস্থিতি পুরো বদলে গেছে। গতকাল বিএনপির অফিসে কোনো নেতা-কর্মী দিনভর প্রবেশ করেনি। দিনভর ছিল তালা বন্ধ। সূত্র জানিয়েছে, দলের এ অসময়ে যে কয়জন নেতা সক্রিয়ভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপিসহ অর্ধশত নেতা জেলে থাকার কারণে আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের পুরো দায়িত্ব এখন খালেদা জিয়াকে মনিটরিং করতে হচ্ছে। গতকাল রাতে বেগম জিয়া জেলের বাইরে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল সভাপতি এড. জয়নুল আবদীন ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দলের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আলোচনা -মতামত নেন বেগম জিয়া। বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, এ সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দলের ভবিষ্যত্ করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি সরকার পতনের আন্দোলন জোরালো করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।