সরকারকে ব্লাসফেমি আইন করতে বাধ্য করা হবে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩১
রাসুল (সা.) ও ইসলাম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদানের জন্য বতর্মান সরকারকে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য করা হবে বলে হেফাজতে ইসলাম হুমকি দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ব্লাসফেমি আইন না করলে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না, অন্য কেউ ক্ষমতায় আসতেও পারবে না। বিবিসির সাথে সাক্ষাত্কারে ব্লাসফেমি আইনের প্রস্তাব নাকচ করায় হেফাজত নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। তারা উগ্র ধর্মনিরপেক্ষ বলয় থেকে বের হয়ে তাওহিদী জনতার কাতারে সামিল হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। সোমবার দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে সন্ত্রাসী হামলায় হেফাজতে ইসলামের অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হওয়ার প্রতিবাদে সম্মেলন আহ্বান করা হয়। লালখান বাজার মাদ্রাসা কার্যালয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হেফাজত নেতারা অভিযোগ করেন, সোমবার হরতাল চলাকালে মাসুমের নেতৃত্বে যুবলীগ সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ গুলি করে অর্ধশতাধিক হেফাজত কর্মীকে আহত করেছে। মঙ্গলবার সকালে একই গ্রুপ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবার লালখান বাজার মাদ্রাসায় হামলার চেষ্টা করে। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে তাওহিদী জনতার কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তারা উল্লেখ করেন। হেফাজত নেতারা বলেন, ঢাকায় শাহবাগ গণজাগরণ কর্মীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তারা হেফাজতের কর্মী নয়। আমরা পত্রিকায় তাদের ছবি যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছি হামলাকারীরা শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদের মাদ্রাসার ছাত্র। লংমার্চ চলাকালে চট্টগ্রামে হেফাজতের সমাবেশে মিডিয়া কর্মীদের ওপর হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী ছিল বলে হেফাজত নেতারা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সরকার হেফাজতের সাথে মিডিয়ার দূরত্ব সৃষ্টি করার জন্য সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। নেতারা বলেন, একশ্রেণির মিডিয়ায় বিএনপি-জামায়াত লংমার্চ সফল করার জন্য হেফাজতকে ৪৫ কোটি টাকা দিয়েছে বলে প্রচার করেছে। এ প্রচারণাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তারা বলেন, এ অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে ওইসব মিডিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে। তারা বলেন, হেফাজতে ইসলামকে আফগানিস্তানের তালেবানের সাথে তুলনা করে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ অনেক রাজনীতিবিদ হেফাজতের আমীর আল্লামা শফীকে একবার সালাম করে তার দোয়া নিতে চান। লংমার্চ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান তাওহিদী জনতাকে আপ্যায়ন করেছিলেন। এরশাদ সাহেব আমাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছিলেন। বিএনপি নেতারা মঞ্চে এসে আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। বক্তারা বলেন, আমরা খুব খুশি হতাম যদি প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমাবেশে নিজেই উপস্থিত হতেন। তিনি তা না করে নিহত নাস্তিক ব্লগার রাজীবের বাসায় যান। তিনি রাজীবকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে তাওহিদী জনতার মনে আঘাত দিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির মধ্যে নারীদের অধিকার পরিপন্থি কোনো দাবি নেই। আমরা শুধু নারীনীতি থেকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বিধানগুলো অপসারণ করার দাবি জানিয়েছি। অথচ সরকার নারীনীতি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। হেফাজতের আন্দোলনকে নারী বিদ্বেষী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে নারী সমাজকে তাওহিদী জনতার মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। বক্তারা বলেন, সরকারের কোনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি হেফাজতের দাবিকে মধ্যযুগীয় দাবি বলছেন। কিন্তু মধ্যযুগ ছিল স্বর্ণযুগ। কারণ সেটা ছিল রাসুলে করিমের যুগ। যে যুগে বিশ্বজিতকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করা হয়, সেটাই মধ্যযুগ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, নায়েবে আমীর হাফেজ তাজুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মাওলানা মইনুদ্দীন রুহী, মুফতি হারুন ইজহার, হাফেজ মো. ফয়সাল।