বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, বোমাবাজি, ভাঙচুর, অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশে ১৮ দলীয় জোটের ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়। হরতাল চলাকালে পিকেটারদের হামলায় বগুড়ায় এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। যশোরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, শ্রীমঙ্গলসহ আরো কয়েকটি স্থানে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে হরতাল বিরোধীদের সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ কমপক্ষে ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
আটক নেতাদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এই হরতালের ডাক দেয়। সে অনুযায়ী আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল চলবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
যশোর অফিস জানায়, শহরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে কমপক্ষে ৩০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ও প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার জন্য বিএনপি ও ছাত্রলীগ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে শহরের পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের একটি হরতাল বিরোধী মিছিল শহরে আসে। মিছিলটি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে মিছিলের শেষদিকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪/৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপরই মিছিলকারী ছাত্রলীগ ও দড়াটানায় পিকেটিংয়ে থাকা বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দড়াটানা ট্রাফিক আইল্যান্ড থেকে জেল রোড পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি দোকান ও দুটি মোটর সাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে রিকশাচালক শহীদ, হোটেল কর্মচারী রাখী বেগম ও এক ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, বিনা উস্কানিতে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগ দাবি করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের মালিকানাধীন মার্কেট ভবন থেকে হরতাল বিরোধী মিছিলে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। বিকালে সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি করেন।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বন্দর নগরীতে হরতালে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মিছিল, সমাবেশ করে। হরতাল চলাকালে নগরীর ওয়াসা মোড়ে পিকেটাররা একটি টেম্পোতে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। বিকালে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে হরতালের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, দুই একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। ভোরে পিকেটাররা জেলা শহরসহ বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলেও তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নেয়। সকাল ৯টার দিকে শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের সামনে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদিকে হরতালের আগের রাতে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে পুলিশ বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
সিলেট অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে সকাল ৯টার দিকে নগরীর বন্দরবাজার পেপার পয়েন্ট এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। সকালে শাহী ঈদগাহ এলাকায় বিজিবি-পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হরতালের সমর্থনে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। দুপুরে আওয়ামী লীগ হরতাল বিরোধী মিছিল করেছে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, বিকাল ৩টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহরের প্রধান সড়কে মিছিল করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। নেতাকর্মীরা পুলিশ ও বিজিবিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫-২০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় বিএনপি নেতা মো.জাকরিয়া ও যুবদল নেতা আজিজুল করিমকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আটক বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত চকরিয়ায় অনির্দিষ্টকালের হরতাল চলবে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, হরতালে জেলায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা। আগের রাতে চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় বলাকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হয়। এছাড়া সকাল ৯টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মালেকের বাড়ি এলাকায় কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেডের সামনে একটি যাত্রীবাহী হিউম্যান হলারে (লেগুনা) আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে অগ্নিদগ্ধ গাড়িটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেন।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে জেলা সদরের নান্দিনা, বাঁশচড়া ও নারিকেলী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়। এ সময় নান্দিনা বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অফিসের সাইন বোর্ড ভাঙচুর এবং বাঁশচড়া বাজারে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাঁশচড়া বাজারে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগানের ৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। নান্দিনা ও নারিকেলীতে হরতাল সমর্থকরা ২টি টেম্পু, ১টি মোটর সাইকেল ও একটি ভটভটি ভাঙচুর করে। পুলিশ সুপার নূরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
রংপুর প্রতিনিধি জানান, হরতালের আগের রাতে নগরীর মিঠু হোটেল মোড়ে একটি প্রাইভেট কারে (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৫৪৩১) আগুন ধরিয়ে দেয় যুবদল কর্মীরা। এ সময় ১টি মোটর সাইকেল ও ২/৩টি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া হরতাল চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরো ৭/৮টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ ছাত্রদল নেতা আশরাফুল ও রব্বানীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বগুড়া শহরতলীর বারপুর এলাকায় পিকেটারদের হামলায় শহিদুল ইসলাম খোকন ওরফে খোকন মিয়া (৪২) নামের এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। নিহত খোকন শহরের মাটিডালি মোড় এলাকার জয়নালের ছেলে। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট ৯ পিকেটারকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, খোকন গম বোঝাই ট্রাক (বগুড়া-ট-১১-০৭০১) নিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। ভোর ৫টার দিকে শহরের বাইপাস মহাসড়কের বারপুর এলাকায় পৌঁছলে একদল পিকেটার ট্রাক লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ইটের আঘাতে খোকন গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়।
ট্রাকের হেলপার রহমত আলী জানান, সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁও থেকে গম বোঝাই করে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলাম। হরতালের কারণে বগুড়ায় অবস্থান করে হরতাল শেষে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। হামলায় ইটের আঘাতে ওস্তাদ (খোকন) মারা যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের নিশিন্দারা এলাকা থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) আশরাফুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, জেলার ১২ উপজেলায় কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি ।
এদিকে হরতালের সমর্থনে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং ও মিছিল শুরু করে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা। ঝাউতলা সড়কের বড়গোলা মোড়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। জেলার শেরপুরে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে রাতে কয়েকটি পরিবহন ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। সেই সঙ্গে শহরের সুত্রাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকালে শহরের খান্দার এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা রাস্তায় বিদ্যুতের পোল ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।
রাজশাহী অফিস জানায়, সকালে নগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি, টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। প্রায় ১৫ মিনিটের সংঘর্ষে একজন পুলিশসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালিতে দু’টি অটোরিকশা ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, শহরের কোথাও বিএনপির নেতা-কর্মীদের দুপুর পর্যন্ত মাঠে দেখা না গেলেও স্বেচ্ছাসেবক দল ও জামাত-শিবির কর্মীরা তত্পর ছিলেন। তারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পিকেটিং করার চেষ্টা করে। চাঁদনীঘাট এলাকায় ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। দুপুর ১টায় ছাত্রলীগ শ্রীমঙ্গল শহরে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। এর একটু পরই ছাত্রদল হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মোহনা টেলিভিশনের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি আতাউর রহমানকে মারধর করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে ১০টি দোকান ও ১২টি যানবাহন ভাংচুর করা হয়।
টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, ভোরে টঙ্গী চেরাগআলী মার্কেট ও হোসেন মার্কেট এলাকায় ৫/৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। পুলিশ ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মিছিলে লাঠিচার্জ, ফাঁকা গুলি করেছে পুলিশ। এতে মহানগর যুবদলের আহবায়কসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিএনপির একটি মিছিল সিরাজ-উদ-দৌলা সড়ক দিয়ে কালীরবাজার এলাকায় যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ সময় মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খোরশেদসহ ৪ জন আহত হন।
অন্যদিকে সকাল সোয়া ৬টায় শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বের হওয়া দলের আরেকটি মিছিল গলাচিপা এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এখানেও পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়লে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
যুবদল নেতা মাকছুদুল খোরশেদ জানান, পুলিশের গুলিতে ইমন নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে তিনিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ তাদের ৩ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, সকালে বিএনপির লোকজন জনস্বার্থ বিঘ্ন্ন ঘটিয়ে পিকেটিং করার সময় পুলিশ বাধা দেয় ও ফাঁকা গুলি করে।
খুলনা অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিবিরকর্মীরা নগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ঝটিকা মিছিল শেষে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর নিরালা এলাকায় যুবদল কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা একটি ইজিবাইক ভাংচুর ও ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া নগরীর সদর থানার মোড়ে বিএনপি কর্মীরা একটি ট্রাক ভাংচুর করে। সকাল ১০টার দিকে নগরীর ফেরিঘাট মোড়ে পিকেটিং করার সময় পুলিশ মহানগর ছাত্রদল নেতা মঞ্জুর মোর্শেদ, মাহমুদুল হাসান মুন্না ও সুজন আহমেদকে আটক করে। এর আগে সকালে মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোড থেকে মিছিল বের করা হয়।
এদিকে হরতাল চলাকালে নগরীতে দূরপাল্লার কোন পরিবহন চলাচল না করলেও সড়কগুলোতে রিকশা ও ইজিবাইকসহ হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। লঞ্চ ও রেল যোগাযোগও স্বাভাবিক ছিল।
বরিশাল অফিস জানায়, হরতালের সমর্থনে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলাম পৃথক মিছিল করেছে। নগরীর বিএম কলেজ, হাসপাতাল রোড ও বগুড়া রোডে কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে পিকেটাররা।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, দুপুরের দিকে জেলা শহরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে পৌর বিএনপি’র সভাপতি জহুরুল আলমসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হোসেন এনাম ও যুবদল নেতা সুশান, রিপন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হেলালকে আটক করেছে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করার সময় পৌর মেয়র আবু তাহেরের সাথে হরতাল বিরোধীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হরতালকারীরা উত্তর তেমুহনী এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি রিকসা ভাংচুর করে। পুলিশ উত্তর তেমুহনী ও আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে ৪ জনকে আটক করে। হরতালকারীরা মান্দারী, জকসিন, দালাল বাজারের ঢাকা-রায়পুর সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। এসময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জেলার রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়ায় বিএনপির মিছিলে যুবলীগের হামলায় ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার ভেলাজান ও বড় খোঁচাবাড়ি নামক স্থানে বিএনপির কর্মীরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তবে কোন প্রকার নাশকতার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে জেলায় বিএনপি ঠাকুরগাঁওয়ে অনির্দিষ্টকালের হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ পিকেটারকে আটক করেছে।
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ভোরে পিকেটাররা রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দিলে ঈশ্বরদী শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পিকেটাররা রেলগেট, বিমানবন্দর সড়ক, পাকশীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টির মতো গাড়ি ভাংচুর করে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে সিরাজগঞ্জে ৫টি মোটরসাইকেল ও ৮টি রিকসা ভাংচুর করেছে পিকেটাররা। সকালে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, হরতালের সমর্থনে দুপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। পুলিশ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করেছে।
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মনোহরগঞ্জ বাজারে হরতালের আগের রাতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল আলম বাচ্চু ও যুবদল কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মোখতার হোসেন সুমনের বাড়িতে ভাংচুর করে পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম মুনসুরের কলেজ রোডের দোকান ভাংচুর করে।
গফরগাঁও সংবাদদাতা জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গফরগাঁও-ময়মনসিংহ রেলপথে পৌরশহরের কাজীবাড়ী এলাকায় হরতাল সমর্থকরা তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের গতিরোধ করতে রেললাইনের উপর গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পুলিশ রেললাইনের ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়।
রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, হরতালকে কেন্দ্র করে রাজীবপুরে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। সকালে বাজার থেকে একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপি’র উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৩০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।
