হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিকে ‘অন্ধকার যুগের সনদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসব দাবি ‘অগ্রহণযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে শিক্ষকরা এ মন্তব্য করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আওয়ামী লীগ এবং বাম দল সমর্থিত নীল দলের শতাধিক শিক্ষক এ মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা মৌন পদযাত্রার মাধ্যমে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, যত ধরনের ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না। এ বিচার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আরেকবার মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেও প্রস্তুত আছি। হেফাজতের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশ মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ফিরে যাবে। তিনি বলেন, সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হেফাজতকে প্রতিহত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম ইমামুল হক বলেন, সরকার ব্লগারদের গ্রেফতার করলেও যারা জাতীয় পতাকা পোড়ালো তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ ধরনের আপোষকামী মনোবৃত্তি কখনো কাম্য নয়। জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে লাঠি, মুখে শ্লোগান। এর আগে সাংবাদিকদের উপর হেফাজত কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে মিছিল প্রেসক্লাব এলাকায় কিছু সময় অবস্থান করে। সেখানে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, একাত্তরের শত্রুরা আবারো ছোবল মারতে শুরু করেছে। সাংবাদিকদের উপর হামলা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে হেফাজত সমাবেশ-হরতাল করেছে। তাদের দাবিগুলোও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তা পূরণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বুকপকেটের চিঠিগুলো’ শীর্ষক একাত্তরের শহীদদের কাছে নতুন প্রজন্মের লেখা চিঠি পাঠ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মঞ্চের আহবানে সারাদেশে শহীদদের কাছে চিঠি লিখেছিল নতুন প্রজন্ম। ঐ চিঠিগুলো থেকেই বাছাই করা কয়েকটি চিঠি পাঠ করা হবে আজ সন্ধ্যায়। পহেলা বৈশাখে বিকালে শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রামে গণজাগরণ
মঞ্চের লাঠি মিছিল
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের উদ্যোগে গতকাল নগরীতে লাঠি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জামালখান সড়কের গণজাগরণ চত্বর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট এলাকায় সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে বিএনপি-জামায়াত এবং হেফাজতে ইসলামের তত্পরতা, সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ১৩ দফা দাবির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এই লাঠি মিছিলের আয়োজন করা হয়।
নিউমার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশের বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসা এবং ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীদের রুখতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে দেশব্যাপী গণজাগরণ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শরীফ চৌহান, আশিকুন্নবী চৌধুরী, রফিকুল আলম সাবজি, আল কাদেরী জয়, ফরহাদ জামান জনি, শিমুল বৈষ্ণব, নিলু নাগ প্রমুখ। আজ বুধবার বিকাল ৩টায় জামালখান চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে বিক্ষোভ সমাবেশ।
