বিপণি বিতানে বাহারি পোশাক, নেই ক্রেতা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪১
বর্ষবরণ উত্সব মানেই রঙিন সাজ, নতুন পোশাক, হাতে চুড়ি, খোঁপায় ফুল, গালে আলপনা করে ঘুরে বেড়ানো। রমনা বটমূলের আয়োজনে সামিল হওয়া। সারা বছর উত্সব পালন করলেও বৈশাখ নিয়ে অন্যরকম উত্তেজনা আর আগ্রহ কাজ করে। তাই এ বছরও মহাসমারোহে প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা ছিল বর্ষবরণের, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দিনের পর দিন হরতাল ম্লান করেছে বৈশাখের কেনাকাটা। ব্যবসায়ীরা জানান, যে সময়টায় প্রতিদিন গড়ে তাদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বিক্রি হত সেখানে তারা দোকান খুলতেই পারছেন না। দুই-একদিন যাও খোলা হচ্ছে সেখানে ক্রেতা নেই একবারে। গত রবিবার নগরীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের দেশি দশ থেকে শাড়ি কিনলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী প্রীতি ও মিতু। তারা জানান, আমরা প্রতি বছরই এই সময় শাড়ি কিনি। কারণ বছরের দুইদিন আমরা শাড়ি পরি এক পহেলা বৈশাখ দুই পহেলা ফাল্গুন। তারা আরো বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতির কারণে অন্যান্যবার এই সময় প্রচুর ভিড় থাকলেও এবার তেমন নেই। বিক্রেতারা জানান, ঈদের চেয়ে নগরবাসীর বেশি আগ্রহ থাকে বর্ষবরণকে ঘিরে। এটা সবার উত্সব হলেও এ বছর খুব স্বল্পসংখ্যক ক্রেতা পাচ্ছেন তারা। এবার যা চলছেঃ সাধারণত বর্ষবরণ উত্সবে আমরা সাদা-লালকে প্রাধান্য দিলেও এ বছর এই দুয়ের সাথে সবুজ কমলা, নীল প্রভৃতি প্রাথমিক রঙের মিশেল রেখেছেন ডিজাইনাররা। আড়ং রিটেল অপারেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, গত বছর তারা লাল-সাদার সাথে সবুজ, নীল রঙের অনুপ্রবেশ করান। ক্রেতাদের সাড়া পেয়ে এ বছর ব্যাপকভাবে এই রঙগুলো ব্যবহার করেছেন। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, তাগা, ফতুয়া, পায়জামা-পাঞ্জাবি সব পোশাকের ক্ষেত্রেই তারা এই রঙ ব্যবহার করেছেন। জানা যায়, এ বছর ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজনে শিল্পীদের পোশাকেও থাকবে লাল-সাদার সাথে সবুজের ছোঁয়া। ছেলেরা পরবে লাল পাঞ্জাবি আর মেয়েদের পরনে থাকবে সবুজ শাড়ি। এ বছর লং কামিজ, চুড়িদার পায়জামা কিংবা সালোয়ারে যেমন আগ্রহ আছে তেমন রয়েছে ওরেফ কাট, আনারকলি আর ফ্রকের সাথে সালোয়ারের চাহিদা। গয়নার ক্ষেত্রে আব্দুর রউফ জানান, সাধারণত রূপা ও মুক্তার গহনার আগ্রহ এ সময় বেশি থাকে। একটি বৈশাখী উত্সবের শাড়ি কেনা যাবে ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায়। সালোয়ার কামিজ ১৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা। পাঞ্জাবি ৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা। শাড়ি কেনা যাবে বেইলী রোডসহ গুলশানের অভিজাত কাপড়ের দোকান, বসুন্ধরা শপিং সেন্টার ও রাপা প্লাজার অভিজাত মার্কেটগুলোতেও। ধনী ক্রেতারা যাচ্ছেন তাদের পছন্দের পোশাকের খোঁজে এসব অভিজাত মার্কেটে। এসব স্থানে সুতা ও পাথরের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ খচিত শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। পোশাকের সাথে অনুষঙ্গঃ শুধু পোশাকই নয়, বৈশাখের জন্য বিক্রি হয় নকশী করা স্যান্ডেল, নকশী চটি, পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে মানানসই স্যান্ডেল, সু, কলাপুরী চপ্পল, নাগরা ইত্যাদি। বিশেষ নকশায় তৈরি মাটির গহনা, ইমিটেশনের গয়না, রূপার গয়নাও বিক্রি হচ্ছে। সোনা-রূপার দাম বেড়ে যাওয়ায় ইমিটেশন ও মাটির গয়নার কদর ও বিক্রি দুইই বেড়ে গেছে। তবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীরা বৈশাখের উত্সবে মাটির গয়না ও কাঁচের চুড়ি এবং নানান ধাতুর গয়না ব্যবহার করেন হাল ফ্যাশনের ঢঙে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, লাল টিপসহ বাহারি টিপের চাহিদাও আগের চেয়ে দ্বিগুণ। রাজধানীর শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে ইমিটেশন ও মেটালের গয়নার দোকানে লাল-সাদা নকশায় বিশেষ বৈশাখী হার, দুল, মালা, বালা, চুড়ি বিক্রি হচ্ছে। একসেট গয়না কিনতে খরচ হবে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা। পিছিয়ে নেই ফুটপাতের বিক্রেতারাও। বেইলী রোড, চারুকলা, শিশু একাডেমীর ফুটপাতসহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতে কাঁচের রেশমী চুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের চুড়ি বিক্রি করছে চুড়িওয়ালীরা। অল্প আয়ের মানুষের জন্য শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, শিশুদের বর্ণিল পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছে ফুটপাতগুলোতেও বৈশাখের আয়োজনে। এখানেও ক্রেতা কম বলে জানান গুলিস্তানের বিক্রেতা ফিরোজ। ব্যবসায়ীদের আক্ষেপঃ সারা বছর যারা দেশি পণ্য নিয়ে কাজ করেন তাদের বর্ষবরণ উত্সব সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় সময়। এ সময় তারা বেশি ব্যবসা করে থাকলেও এ বছর তা গুড়েবালি বলে জানান ইস্টুডিও এমদাদের প্রধান নির্বাহী এমদাদ হক। তিনি বলেন, আমাদের আয়োজন যেমন বিশাল ছিলো তেমন ক্ষতিও হচ্ছে বিশাল।