বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে তাল্লো

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪১
পেট্রোবাংলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়েই বাংলাদেশের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে তাল্লো। বঙ্গোপসাগরের নয় নম্বর গ্যাস ব্লকের যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি তাল্লোর অংশটুকু সিঙ্গাপুরভিত্তিক তেল-গ্যাস কোম্পানি ক্রিসএনার্জির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। দুই কোম্পানির সাথে এই নিয়ে চুক্তিও হয়েছে বলে জানা গেছে। তাল্লোর অংশের দাম ধরা হয়েছে ৪২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বলে পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে। ক্রিসএনার্জি এবং তাল্লো সম্প্রতি এ চুক্তি করেছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের নয় নম্বর গ্যাস ব্লকে অবস্থিত বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রের মূল পরিচালনা কোম্পানি ছিল তাল্লো। তিন কোম্পানি যৌথভাবে এই গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে কাজ করছিল। এখানে তাল্লে¬ার অংশ ছিল ৩০ শতাংশ। বাকি অংশের ৬০ শতাংশ নাইকো এবং ১০ শতাংশ দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সের। পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মোহাম্মদ ইমাদুদ্দিন বলেন, তাল্লো যদি তাদের অংশ অপর কোন কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে চায় তাহলে আইনগত কোন বাধা নেই। সেক্ষেত্রে যে কোম্পানি তাদের অংশ কিনবে তাদের অবশ্যই গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও দক্ষ হতে হবে। একইসঙ্গে এই ধরনের কাজে আর্থিক সামর্থ্যও থাকতে হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছ থেকে জানার পরই অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি দেশে বড় তেলের খনি পাওয়ার কারণে তাল্লে¬া বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তু নিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো এশিয়া থেকেই কোম্পানিটি তাদের সকল বিনিয়োগ গুটিয়ে নেবে। তাল্লে¬াকে ব্যবসায় গুটিয়ে নিতে হলে উত্পাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুযায়ী সকল ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। তাল্লে¬া আনুষ্ঠানিকভাবে পেট্রোবাংলাকে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি জানালে পেট্রোবাংলা তাদের প্রস্তাব জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই তাল্লে¬া ক্রিসএনার্জিকে তাদের ব্যবসায় বুঝিয়ে দিতে পারবে। ঘানাতে ২০০৮ সালে তাল্লে¬া ‘ডিপওয়াটার তানো’ ও ‘ওয়েস্ট ক্যাপ থ্রি পয়েন্ট’ নামে দুটি খনিতে তেলের সন্ধান পায়। পরে এই দুটি খনিতে অনুসন্ধান কূপ খনন করার পর দেখা যায় এই খনি দুটি পৃথিবীর অন্যতম বড় তেল খনি হতে পারে। আর এই কারণে শুরুতে এই দুটি ক্ষেত্রের নামকরণ করা হয় ‘জুবলি ফিল্ড’। তাল্লো ১৯৮৬ সাল থেকেই আফ্রিকাতে কাজ করছে। এই জুবলি ফিল্ডের সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ৮০০ বিসিএফ। বর্তমানে এই ক্ষেত্র থেকে ৬টি অনুসন্ধান কূপের মাধ্যমে তেল উত্তোলন করছে কোম্পানিটি। একইভাবে উগান্ডাতেও আরো একটি বড় তেলের খনির পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে জুবলি ফিল্ডের সমান তেলের মজুদ থাকার সম্ভাবনা আছে। ১৯৯৭ সালে কুমিল্ল¬া জেলার এক হাজার ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা গ্যাস অনুসন্ধান, উন্নয়ন, উত্পাদন এবং বাজারজাতকরণের জন্য পেট্রোবাংলা, তাল্লো, নাইকো এবং বাপেক্সের মধ্যে চুক্তি হয়। বাঙ্গুরা ক্ষেত্রে মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ৩০৯ বিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে তাল্লে¬া বাংলাদেশে বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র ছাড়া এশিয়ার মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানের একটি গ্যাসক্ষেত্রে কাজ করছে।