১৬ এপ্রিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

পদ্মা সেতুতে নেয়া হবে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৭
যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেয়া হবে। সেনাবাহিনী এই সেতু নির্মাণে স্থানীয় পরামর্শকের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এ ব্যাপারে আগামী ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রী গতকাল বুধবার দুপুরে মেঘনা ও গোমতী সেতুর সংস্কার কাজ উদ্বোধন শেষে মেঘনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত সংলগ্ন প্রস্তাবিত হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন বলে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২য় মেঘনা, ২য় গোমতী এবং ২য় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণকাজ জাপান সরকারের অর্থায়নে আগামী অক্টোবরে শুরু হবে। ইতিমধ্যে জাইকার সাথে সেতু ৩টি নির্মাণে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংস্কার কাজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভুঁইয়া ও আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক, মেজর জেনারেল হাবিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এ সময় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে যোগাযোগ মন্ত্রী বিরোধীদলের ঘন ঘন হরতালের সমালোচনা করে বলেন, ভবিষ্যেক হত্যার অপর নাম হরতাল। হরতাল দেশকে পিছিয়ে দেয়। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির যাত্রা থামিয়ে দেয়। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়। তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের প্রত্যেককে হতে হবে দেশের কর্মী। এ দেশের ৯৮ ভাগ মানুষ অতি-সাধারণ। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তারা আমাদের ভোট দিয়ে অসাধারণ বানিয়েছে। তাই তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের হতে হবে নিবেদিতপ্রাণ। যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের টার্গেট হতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মেঘনা ও গোমতী সেতুর জরুরি মেরামত ও পুনর্বাসন কাজ করছে। ইতিমধ্যে সেতু দুটিতে ৯৬টি হিঞ্জ বিয়ারিং ও ৩০টি এক্সপানশন জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেঘনা নদীর তলদেশে সেতুর ভিত্তিমূলে রিভার বেড স্কাউর প্রটেকশনের কাজও শেষপ্রান্তে। মেরামত কাজ শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে সেতু দুটি আগামী ১০ বছর নিরাপদ থাকবে বলে প্রকৌশলীগণ আশা প্রকাশ করেছেন।