অব্যাহত নাশকতার মধ্যে ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি ট্রেনের সামনে ইঞ্জিন কক্ষে চালকের পাশেই থাকবে দু’জন সশস্ত্র পুলিশ। আর রেললাইনের নিরাপত্তায় রেল পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে যে সব জেলায় রেললাইন রয়েছে ওই সব জেলার পুলিশকেও লাইনের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল তিনটায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালকের সঙ্গে দু’জন সশস্ত্র পুলিশ রাখার মধ্যদিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এরপর থেকে সব ট্রেনেই চালকের পাশে সশস্ত্র পুলিশ রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক সোহরাব হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, রেলওয়ের নাশকতা ঠেকাতে রাতের পাশাপাশি এখন দিনের ট্রেনগুলোতেও সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে সব এলাকা দিয়ে ট্রেনটি যাবে ওই সব এলাকার জেলা পুলিশের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু এলাকাকে স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত রবিবার রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের শেষ বগিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ট্রেনের ওই বগির সব সিট কভার পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর ময়মনসিংহের গফরগাঁও, গৌরীপুর ও ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে ময়মনসিংহ এলাকার সব রেলস্টেশনে ও ট্রেনে পুলিশ বিশেষ টহল দিচ্ছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রেনে আগুন দেয়া, রেললাইন উপড়ে ফেলাসহ কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে ইঞ্জিনকক্ষে থাকা সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করবে। আর এখন থেকে রেললাইনের প্রতিটি ইঞ্চি পুলিশের নজরদারির মধ্যে থাকবে। কেউ ইচ্ছে করলেই রেললাইন অবরোধ বা স্লিপার তুলে ফেলাসহ কোন ধরনের নাশকতা করতে পারবে না। এখন থেকে এই ধরনের নাশকতা ঘটলে রেল পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও জবাবদিহি করতে হবে। কোন ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানান তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের গঠিত ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকে রেলে ব্যাপক নাশকতা চলছে। ট্রেনের বগিতে আগুন, স্লিপারে আগুন, স্লিপার তুলে ফেলা, ফিসপ্লেট খুলে ফেলাসহ গত প্রায় দেড় মাসে সারাদেশে ১১০টির মতো নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এতে রেলের অন্তত ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনে আগুনের ঘটনার পর ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছিলেন, ‘বিএনপির উস্কানিতে জামায়াত-শিবির চক্র গত কিছুদিন ধরে সারাদেশে ট্রেনে নাশকতা চালাচ্ছে। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ কিন্তু এরপরও বেশ কয়েকটি নাশকতা হলেও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
