যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বস্তুনিষ্ঠ করার আহ্বান

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১২
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, বস্তুনিষ্ঠ করা, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামরিক অবস্থান-নির্বিশেষে সব যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই সদস্য। কিথ ইলিসন এবং জেমস পি ম্যাকগভার্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা পৃথক পৃথক চিঠিতে এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২৮ মার্চ লিখিত চিঠিতে কিথ ইলিসন বলেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে এবং বিচার প্রশাসনের মান উন্নয়ন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে- এমন আশায় আমি চিঠিটি লিখছি। চিঠিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ডাদেশের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিচার বহির্ভূত, গণ বা নির্বিচারে হত্যা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনে বিচারকাজে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের নিশ্চয়তা থাকতে হয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ফেব্রুয়ারিতে সতর্ক করে বলেছে, ট্রাইব্যুনাল আইনটিতে অতীতের অপরাধের জন্য শাস্তিদানের বিধান থাকায় তা ন্যায়বিচারের মানদণ্ড লঙ্ঘনমূলক এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি আরো বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের’ আরো ভালো সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাক্ষীদের আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়া এবং পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচিতি বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সব যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা উচিত। বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের বিচার খোলামেলা ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। কংগ্রেস সদস্য জেমস পি ম্যাকগভার্ন প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন ২ এপ্রিল। তিনি বলেন, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি উভয়ের আমলেই পররাষ্ট্র দফতর অব্যাহতভাবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। ম্যাকগভার্ন বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করার মানে এই নয় যে, যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তারা নির্দোষ। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করার ফলে এমন অপ্রয়োজনীয় সংশয়ের সৃষ্টি করে যা বিচার প্রক্রিয়ার মান হ্রাস করে এবং এর ফলে সৃষ্টি হয় অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা, যা আমরা সম্প্রতি প্রত্যক্ষ করছি। যেসব মামলার রায় ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে, সেগুলোর আপিল প্রক্রিয়া যাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে পুরোপুরিভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।