বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো পুরোনো ঢাকার খান মহম্মদ মির্ধার মসজিদের কথা।
ঢাকার নানা স্থানে মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে এখনও যে কতগুলো মসজিদ টিকে আছে তারই অন্যতম পুরোনো ঢাকার আতশখানায় অবস্থিত খান মহম্মদ মির্ধার মসজিদ। ধারণা করা হয় যে, ঢাকার তত্কালীন প্রধান কাজী ইবাদুল্লাহের আদেশে জনৈক খান মহম্মদ মির্ধা এটি নির্মাণ করেন। যদিও মসজিদটি ঠিক কোনসময় নির্মাণ করা হয়েছিল তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বেশ কয়েকটি মত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গবেষক মুনতাসীর মামুন তার ‘ঢাকা স্মৃতি বিস্তৃতির নগরী’ গ্রন্থে মসজিদটির নির্মাণকাল ১৭০৬ খ্রিষ্টাব্দ বলে উল্লেখ করেছেন। এবং সেই অনুযায়ী নায়েবে নাযিম ও ঢাকার উপশাসনকর্তা ফররুখ সিয়ারের শাসনামলে এটি নির্মিত হয় বলে ধারণা করা যায়। অন্যদিকে এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামলা ২’ স্থাপত্য শীর্ষক গ্রন্থে এই মসজিদটির নির্মাণকাল ১৭০৪ থেকে ১৭০৫-এর মাঝামাঝি সময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটির চোখে পড়ার মতো একটি বিশেষত্ব হলো প্রায় ৫.১৮ মিটার উঁচু নিম্নতল প্ল্যাটফর্মের উপর স্থাপিত এর ভিত্তিটি। ৩৮ মিটার দীর্ঘ ও ৩০.৪৮ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এই প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চটির নিচে টানা করিডোর ও ছোট ছোট বেশ কতগুলো কক্ষ রয়েছে। খুব সম্ভবত নিম্নতল প্ল্যাটফর্মের এই কক্ষগুলো একসময় মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের আবাসস্থ হিসেবেই ব্যবহূত হতো। উঁচু এই ভিত্তিভূমির উপর নির্মাণ করা মূল নামাজঘর বা মসজিদটি দৈর্ঘে ৪৮ ফুট এবং প্রস্থে ২৪ ফুট। সমতল ভল্ট বিশিষ্ট ছাদ দাড়া আবৃত্ত প্ল্যাটফর্মের উপর দাঁড়িয়ে থাকা মূল নামাজ ঘরের মধ্যে রয়েছে মুঘল রীতিতে নির্মিত তিনটি গম্বুজ। এখানে সামনের রাস্তা থেকে সরাসরি মসজিদে উঠে যাওয়ার জন্য পূর্ব দিকে রয়েছে একটি সিঁড়ি পথ। এ ছাড়া মসজিদের সামনে এবং নিম্নতল প্ল্যাটফর্মের উপরে রয়েছে বেশ খানিকটা খোলা জায়গা। যেটি এক সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের শিক্ষাদানের জন্য ব্যবহূত হতো বলে মনে করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা ঐতিহ্যবাহী লালবাগ কেল্লা দেখতে পুরোনো ঢাকায় যান, তারা সামান্য একটু উত্তর পশ্চিতে এগিয়ে অনায়াসেই দেখে আসতে পারেন মুঘল রীতিতে নির্মাণ করা এই প্রাচীন মসজিদটি।
