পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রকল্প হুমকিতে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৭
সেনা সমর্থিত জরুরি অবস্থার সরকারের প্রথম অর্থ বছরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে সমুদয় কাজ হুমকির সম্মুখীন। আর এ জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। এম এম মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের বার্ষিক অডিট আপত্তির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো পদ্ধতির উপর ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে ১০টি অডিট আপত্তি রয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানায়, বাজেটে বরাদ্দকৃত এক হাজার ৪৫১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার মধ্যে ২০৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অব্যয়িত, উন্নয়ন বাজেট থেকে ছাড়কৃত ৮৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার মধ্যে ১১৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা খরচ হয়নি। বৈঠকে বলা হয় অবাস্তব রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অপর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ এবং ছাড়কৃত অব্যয়িত অর্থ রাজস্ব আয় হিসাবে প্রদর্শন, কর্মসূচি/কর্মকৃতি নির্দেশনা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অসংগতি এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রকৃত অগ্রগতি খুবই নগণ্য। বৈঠকে এসব কারণে প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার জন্য সম্পাদিত সমুদয় কাজ হুমকির সম্মুখীন। জড়িত অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ২৬২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির বিষয়ে কমিটি ছাড়কৃত টাকা খরচ করতে না পারার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অব্যয়িত অর্থ রাজস্ব আয় হিসাবে প্রদর্শন এবং কর্মসূচি প্রণয়ন ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে অসঙ্গতিকে কর্মকর্তার অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং দুর্নীতি হিসাবে চিহ্নিত করার কথা কমিটি বলেছে। সে সাথে দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অগ্রগতি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সিএজির মাধ্যমে কমিটিকে বিষয়গুলো অবহিত করার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুমোদন বা গ্রহণ ছাড়াই চার কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৫ টাকায় চুক্তিপত্র সম্পাদনপূর্বক চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়। মেরামত ও সংরক্ষণ কাজে অতিরিক্ত ব্যয় তিন কোটি ৩৩ লাখ টাকা, দু’বছর সময় ব্যবধানে ভূমি অধিগ্রহণ মূল্য ৪৯৩.২০% বৃদ্ধি, প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ডিপিএম-এর মাধ্যমে সম্পাদিত কাজের বিপরীতে ঠিকাদারকে ১০ কোটি ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৬ টাকা পরিশোধ করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পিপিআর-এর সংগ্রহ পদ্ধতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে একই কাজকে খন্ড খন্ড অংশে বিভক্ত করে ৮৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির বিষয়ে কমিটি বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করতে সুপারিশ করেছে। তাছাড়া দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অনাদায়ী টাকা দ্রুত আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অগ্রগতি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সিএজির মাধ্যমে কমিটিকে বিষয়গুলো অবহিত করার সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, মো. আব্দুস শহীদ, ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, খান টিপু সুলতান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং মোছাম্মত্ ফরিদা আখতার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।