বন্ধ হলো আশুগঞ্জ সার কারখানা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৪
সার কারখানা বন্ধ করে বিদ্যুত্ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গত বুধবার আশুগঞ্জ সার কারখানায় উত্পাদন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে কারখানাটি চলতি অর্থবছরে সংশোধিত উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে। কারখানার কারিগরি বিভাগ থেকে জানা যায়, আশুগঞ্জ সার কারখানার উত্পাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ১৬শ’ টন হলেও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বর্তমানে ১২শ’ টনের বেশি ইউরিয়া উত্পাদন করা সম্ভব হয় না। এই হিসাব অনুযায়ী বিসিআইসি থেকে বছরের প্রথমে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৩০ হাজার টন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে গত বছর ৫১ দিন উত্পাদন বন্ধ থাকায় পরবর্তীতে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার টনে পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর বুধবার সকালে কারখানার উত্পাদন বন্ধ করা হয়। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (উত্পাদন) মোঃ জিন্নাত আলী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত কারখানার উত্পাদন বন্ধ থাকবে। এদিকে সার কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ। লাভজনক এই কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দিয়ে চালু রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে আশুগঞ্জ সার কারখানার সর্বস্তরের সাধারণ শ্রমিকরা সিবিএ কার্যালয়ে এসে জড়ো হয় এবং কারখানার উত্পাদন চালু রাখার দাবিতে সিবিএ নেতৃবৃন্দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পরে সিবিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক শ্রমিক সমাবেশে সিবিএ সভাপতি সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক, আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ থাকা সত্ত্বেও বিসিআইসি‘র একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ সার কারখানা উত্পাদন বন্ধ করা হয়েছে। কারখানাটি বন্ধ থাকলে ১৪শ’ টন উত্পাদন ক্ষমতা হিসাবে প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে। শুধু তাই নয় দীর্ঘ ৪ মাস বন্ধ থাকলে বহু মূল্যবান যন্ত্রাপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারি ও কর্মকর্তারাও তাদের প্রাপ্য লাভাংশ থেকে বঞ্চিত হবে। সবদিক বিবেচনা করে দ্রুত কারখানাটি পুনরায় উত্পাদন চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন শ্রমিকরা।