অনন্য সাবা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৬:০২
‘শুনেছি আমার জন্মের আগে থেকেই আম্মু আর আব্বু একটা হারমোনিয়াম বানিয়ে রেখেছিল। তবে ভাগ্যবতী বলেই আমি এমন বাবা-মা পেয়েছি। যারা আমাকে এ গানের বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং করবেন। আমি ৩ বছর বয়সে হাঁটি হাঁটি পা পা আর আলতো কথা শিখতেই মা নিয়ে যেতেন তার সাথে সাথে গানের স্কুলে। ‘সৃষ্টি ললিতা কলা একাডেমী’ ছিল আমার প্রথম গান শেখার স্কুল। ১৯৯৮ থেকেই শুরু করি গান শেখা। একটু একটু করে সাথে নাচও শিখতে ভর্তি হলাম শিশু একাডেমীতে। দু’বছর পর আবার গানেই ভর্তি হই শিশু একাডেমীতে। আ. আউয়াল, প্রশান্ত কুমারের কাছে শিখেছি। ৩ বছর কোর্সের পর খুবই ইচ্ছে করল হাওয়াইয়ান গিটার শিখতে। শিশু একাডেমীতে থাকতেই আবৃত্তি, অভিনয়, এর উপরও কিছু অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাই। বেতার, টেলিভিশন, স্টেজ শো করছি অনেক ছোট থেকেই। সেই সাথে ছবি আঁকার প্রতিও ছিল ভীষণ ঝোঁক। স্কেচ, ওয়েল পেইন্টিং, জলরং, পেস্টেল, ফেব্রিক্স সবই করতাম’, সাবা শোনাচ্ছিলেন তার শুরুর গল্প। শুরুর থেকেই যে সবকিছুতে জয়ী হয়ে এসেছে সে, তেমন কিন্তু না। ২০০৩ সালে অংশ নেন নতুন কুঁড়ি, পদ্মকুঁড়ি, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা। প্রথম প্রথম কিছু হতে না পারলেও দমে যাননি তাই পরের বছরগুলোতে সব প্রতিযোগিতার পুরস্কার চলে আসতে লাগল তারই ঘরে। ২০০৪ সালে একটি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কাজ করেন। ‘ইচ্ছে করে গাছের ডালে, পা দুলিয়ে বসতে’ এই বাচ্চারা খুব পছন্দ করে। তারপরই ২০০৫ সালে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া ৮টি শিশুদের একটি দলের হয়ে সাবা নেপাল ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়ে যান। সাবা বলেন, ‘২০১০ সালে অংশ নিই এনটিভি রিয়েলিটি শো ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এ । সেখানে গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, ছবি আঁকা ছিল পছন্দের বিষয়। এর শেষ বিজয়ের হাসি হয়তো হাসতে পারিনি। তবে তৃতীয় রানার্সআপ হতে পেরেই খুশি। তারপর আর থেমে যাইনি। মনটা একটু খারাপ ছিল বলেই প্রচণ্ড সাহস আর শক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে নেমে পড়ি। ২০১১ সালে ‘প্রার্থনা’ অ্যালবামে মাহমুদ সানির সাথে একটি ডুয়েট দিয়ে গানের জগতে নতুনভাবে ডানা মেলি।’ ২০০৯ সালে ‘শিশু চলচ্চিত্র’ উত্সবে অংশগ্রহণ তার বড় প্রাপ্তি। আরও আগেই আমি শর্ট ফিল্ম বানানো কয়েকটি কর্মশালাও করেছি। তার মধ্যে ১ মিনিটের ১টি ছবি নির্মাণ করে চ্যানেল আই থেকে ১০০ ডলার পুরস্কার পায় সাবা। সেই সাথে নেদারল্যান্ড, চীনা উত্সবেও ছবিটি প্রদর্শিত হয়। মোরশেদুল ইসলাম, জাফর ইকবাল, মুস্তাফা মনোয়ার স্যারদের সাহচর্যে পরের বছর ৩য় শিশু চলচ্চিত্র উত্সবে জুরি বোর্ডের বিচারক হিসেবে কাজ করেন তিনি। এভাবে নানা কাজের মধ্যে দিয়ে তার মিডিয়ায় পদচারণা। তবে গানের ভেলায় ‘বেলা অবেলা’ কাটাতেই বেশি আনন্দ পান জানালেন তিনি। গান গেয়ে অর্জন করেছেন ‘সাঁকো টেলিফিল্ম মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-২০১১’, ‘মাই টিভি লিটল স্টার অ্যাওয়ার্ড’সহ বেশ কিছু পুরস্কার। ২০০৪ সালে পদ্মকুঁড়িতে নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, পল্লীগীতি—এই তিনটি বিভাগে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পান স্বর্ণপদক। ২০০৫ সালে শাপলাকুঁড়িতে নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হন। ২০০৭ সালে লোকনৃত্য বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করে জিতে নেন জাতীয় শিশু পুরস্কার। একই বছর অভিনয়, জলরং, আবৃত্তি, ছড়াগান—চারটি বিভাগে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু পুরস্কার। বিতর্ক, খেলাধুলায়ও সমান অংশগ্রহণ তার। বর্তমানে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছেন তিনি। চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সাবা। সংগীতাঙ্গনেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।