১৯ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর জন্ম ফ্রান্সে। তিনি যখন তার প্রথম ব্যবসায়িক পদক্ষেপ নেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তার এই সাইটের ভিজিটর সংখ্যা বাড়তে দেখেন হু হু করে। তিনি অবশ্য এতটা ভাবতেও পারেননি। আরও মজার ব্যাপার হলো, তার এই ব্যবসা সফলতা পায় ইন্টারনেটে কুইজ শোয়ের মাধ্যমে। কাজটি তিনি করেন তার নিজ শহরে বসে। এখানেই শেষ নয়, তার এই সাইটের ভেতর আরও রয়েছে পড়াশোনার মজার কিছু উপাদান। যেমন বিজ্ঞানবিষয়ক কিছু তথ্য, সমাজ ও দর্শন নিয়ে খোঁজখবর ইত্যাদি। শহর থেকে দূরে যারা আছেন তারা হাতের কাছেই এমন সুযোগ পাওয়ার কারণে এই সাইটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়তে থাকে। শুরু করার বেশ কিছুটা সময় পর তা বেশ কিছু জনপ্রিয় সাইটকেও ছাড়িয়ে যায়। স্বভাবতই সকলের নজর পড়ে অ্যান্ড্রুর ওপর। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি অনলাইনেই কেনাবেচার একটা কোম্পানি খুলে ফেলেন। এর তিন বছর পর তার প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ১৫ হাজার ডলারের মতো আয় করতে শুরু করে। খুব গর্ব নিয়ে তিনি তার প্রথম মিলিয়ন ডলার আয় করার গল্পটি বলেন, ‘হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন শেষ করিনি, অথচ মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে গেছি, বিষয়টা কি উদ্বেগজনক নয়!’
কুইজলেট ডট কম, একটি অনলাইন কুইজ সেক্টর। অনলাইন এই সাইটটিতে রয়েছে আলটিমেট ফান এবং বিভিন্ন মজাদার কুইজে অংশগ্রহণের সুবিধা। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় সাইটে পরিণত হয়েছে এটি। সাইটটির শুরুর পেছনে একটি গল্প আছে। অ্যান্ড্রু সেসময় হাই স্কুলের ছাত্র। ফ্রেঞ্চ ক্লাস করতে সানফ্রান্সিসকোতে এলেন। সেখানে এক শিক্ষার্থীর সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। এই বন্ধুই তাকে এমআইটি-এর কম্পিউটার সায়েন্স প্রোগ্রামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সেখান থেকেই মূলত শুরু। এরপর তিনি নিজের মতো করে কাজ শুরু করেন এই কম্পিউটার নিয়ে। জনপ্রিয়তা অর্জনের একটা নেশা তার মধ্যে সব সময়ই ছিল। সেই সাথে যোগ হয়েছিল কিছু একটা করার আত্মপ্রত্যয়। যার ফলাফল হলো কুইজলেট ডট কম। শুরু হলো তার ব্যবসা। এরপর তিনি বাজার ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে থাকেন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রির জন্য মজুদ করতে থাকেন। ভালোই ব্যবসা করেছিল সেসময় তার কেনাবেচার সাইটটি। এরপর তিনি একজন দক্ষ প্রোগ্রামার নিয়োগ করেন তার কাজের সুবিধার জন্য এবং তাকে ব্যবসার সমস্ত নিয়মকানুন বুঝিয়ে দেন। শুরু হয় প্রফেশনালি ওয়েব-অনলাইন মার্কেটিং। এভাবে একসময় সাইটটি বিজ্ঞাপনের সাইট হিসেবেও জনপ্রিয়তা পায়। ২০০০ সাল, তার বয়স তখন ১৬, তিনি আমেরিকার সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি টোকিও ধাঁচের ব্যবসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। এ সময়ই তার প্রথম বই ‘সিক্সটিন ইয়ারস সিউও’ প্রকাশিত হয় আমেরিকাতে। শুধু তাই নয়, দেশের অধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান পায় এটি। জানুয়ারি ২০০৮, তার লেখা দ্বিতীয় বই বের হয়। সেটাও ব্যাপক আলোচিত হয়। তার এই বইটির নাম, ‘সফলতার শর্তাবলি’ বইটি মূলত সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ১৯টি উপায় নিয়ে রচিত। সিমন ও স্টুস্টার প্রকাশনী থেকে বইগুলো প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পরপরই তার এই বইগুলো ব্যাপক হারে জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।
তার এই সাফল্য এত বেশি আলোচিত হয় যে পরবর্তীতে তার খবরাখবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাগুলোতে আসে। টেলিভিশনে প্রচার করা হয় তার সাক্ষাত্কার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নিতে থাকেন। যেমন, অপেরা শো, ফক্স নিউজ. সিএনবিসি এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকাতে। এরপর তিনি অপেরার সাথে জড়িত হন। এখানেও যথারীতি সাফল্য তার পিছু নেয়। তিনি ‘অপেরাস বিগ গিভ’ খেতাব পান।
অপেরা শোয়ের অনেক বড় একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে নাম লেখান। সে বছর তিনি আমেরিকার ১০ জন কনিষ্ঠ সফল ভার্জিনিয়ানদের তালিকায় চলে আসেন।
