কমার্শিয়াল ছবি না এক্সপেরিমেন্টাল ছবি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৬:০৮
বাংলা ছবির বিবর্তন। বছর খানেক আগেও বাংলা ছবি বললেই নাক সিঁটকাতো অনেকেই, কিন্তু এখন? কমার্শিয়াল ছবি নয়, এক্সপেরিমেন্টাল ছবিই তৈরি হচ্ছে। চায়ের দোকানে আঁতেল উপমা, নাটুকে নিলয় এবং রগচটা রাজিবদের আজকের আড্ডার টপিক বাংলা ছবি। উপমা :সেদিন ঢাকার এক বিখ্যাত শপিংমলে বাংলাছবির এক হিরোকে নিয়ে দেখলাম পাবলিক হেব্বি লাফালাফি করছে। মনে হচ্ছে শাহরুখ খান স্বয়ং তাদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। আমার তো মনে হয়, পাবলিক এখন সত্যিই বাংলা ছবি দেখছে। তোরা কী বলিস? নিলয় :দেখছে না বোকা বনছে—সেটাই হচ্ছে মূল বিষয়। আমার তো মনে হয় মিডিয়া খানিকটা ইচ্ছা করেই তাদের বেশি বেশি হাইলাইট করছে। এবং তাতে পাবলিকও এই ফাঁদে পা দিচ্ছে। কই আমরা কি এসব বাংলা ছবি দেখতে যাই? রাজিব :তুই না দেখতে পারিস, আমি দেখি। আমার মনে হয়, সত্যি একটা পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে গানের ব্যাপারে এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যেমন ‘মনপুরা’র ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটিতে তো ফজলুর রহমান বাবু ফাটিয়ে দিয়েছে। আমার তো বেশ ভালোই লেগেছে। নিলয় :আমিও সেদিন এই ছবিটা দেখেছি, ক্যামেরার কাজ, ডায়লগ, গল্পের প্লট—সবকিছুই বেশ স্মার্ট। যাই বলিস, রাজিব তোর সমস্যা হলো, তুই না দেখেই একটা জিনিসকে ‘পদের নয়’ ট্যাগ দিয়ে দিস। আরে বাবা আগে দেখ তারপর কাটাছেঁড়া কর। উপমা :ইদানীং বাংলা ছবিতে যেসব ড্রেস ব্যবহার করা হয়। তা সত্যিই হ্যাপেনিং, বিভিন্ন উত্সবেও এইসব পোশাক পরছে। মানে একটা ফ্যাশন এবং ট্রেন্ডস অন্তত বাংলা ছবির হাত ধরে শুরু হয়েছে। নিলয় :দ্যাখ, এটা ঠিক আমি তেমন বাংলা ছবি দেখি না। কিন্তু তোরাই বল, এখনও সেই শহর এবং মফস্বলের পার্থক্যটা কিন্তু রয়েই গেছে না কি? উপমা :কিছুটা হয়তো আছে এখনও কিন্তু সেটা স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে সময় তো লাগবেই। আমাদের উচিত সেই সময়টুকু দেওয়া। নিলয় :সময় আর কত দেওয়া যায়, কেননা এই সময়ে যারা চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট তারা কতজন নিজের কাজের সঠিক পরিচর্যা করে। সেই গতানুগতিক কাজের ধারাই এখন বর্তমানে আছে। আরও একটি সমস্যা হচ্ছে, বর্তমানে চলচ্চিত্র এক নায়কনির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে করে চলচ্চিত্রের ভিন্নতার স্বাদ থাকে না। রাজিব :এই যে বললি এক নায়কের কথা, অন্য নায়কের ছবি কি এখন দর্শকরা দেখে, তুই বল। আগে যে নায়কদের মাঝে একটা প্রতিযোগিতা ছিল ভালো করার। কিন্তু এখন তো অন্যরা ভালো করার আশা ছেড়ে সিনেমা থেকেই উধাও। তাদের আর ঠিক ওইভাবে দেখা যায় না। তাইলে আর কি করা, পরিচালকদের এক নায়কের উপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। উপমা :আরে ধুর, মাথায় যদি ভালো আইডিয়া থাকে তাহলে নায়ক কোনো সমস্যা না। এখন আর সেই ক্রিয়েটিভ লোকজন নেই যে ভালো ছবি বানাবে, কেননা বাংলা ছবি এখন অনেকটাই নির্ভর করে হিন্দি ছবির কাটপেস্টের উপর। আমার মতে, প্রথমে এই সেক্টরে ক্রিয়েটিভ কিছু লোক দরকার। এরপর ছবির মান এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। রাজিব :তোদের কে বলল ক্রিয়েটিভ লোক নেই। এই যে ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ছবিটি তো ব্যাপক জনপ্রিয়। এখানে পরিচালক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা দিকগুলো উঠে এসেছে। এটা আমাদের জন্য বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অবশ্য ভালো একটি দিক। এভাবে হয়তো আবার এই ক্রিয়েটিভ মানুষগুলোর হাত ধরে চলচ্চিত্রের স্বর্ণ যুগ ফিরে আসবে।