‘জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে’ শ্লোগান নিয়ে গতকাল শুক্রবার কেন্দ ীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানের। ‘কণ্ঠযোদ্ধাদের পঁচিশ বছর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। শিশু কণ্ঠশিল্পীরা যেমন ছিল এই অনুষ্ঠানে তেমনি ছিলেন অনেক ইতিহাসের সাক্ষী কণ্ঠযোদ্ধারাও। নানা বয়সের নানা শিল্পমাধ্যমের মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয় এ রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান। কেন্দ ীয়ভাবে ঢাকার পাশাপাশি একইদিন চারটি বিভাগীয় এবং দুটি জেলা শহরে (মোট ৭টি অঞ্চলে) এই অনুষ্ঠান হবে। ঢাকার বাইরে অন্য শহরগুলো হলো—চট্টগ্রাম (জেলা শিল্পকলা একাডেমী), রাজশাহী (একাত্তরের মঞ্চ, বঙ্গবন্ধু চত্বর, আলুপট্টি), খুলনা (শহীদ হাদিস পার্ক), বরিশাল (কবি জীবনানন্দ দাশ মিলনায়তন), কুমিল্লা (বীরচন্দ গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন) এবং মাদারীপুর (স্বাধীনতা প্রজন্ম মঞ্চ, লেকের পাড়)।
রাজধানীতে গতকাল সকাল ১১টায় পাবলিক লাইব্রেরির উন্মুক্ত চত্বরে দেশের জ্যেষ্ঠ ২৫ জন কণ্ঠযোদ্ধা জাতীয় সংগীতের সঙ্গে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এসময় জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর এবং সাধারণ সম্পাদক মো, আহ্কাম উল্লাহ। অন্যরা হলেন—কামাল লোহানী, কাজী মদিনা, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী, রামেন্দু মজুমদার, আবেদ খান, কাজী আরিফ, গোলাম কুদ্দুছ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আশরাফুল আলম, ইস্তেকবাল হোসেন, হাসান আরিফ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, ফকির আলমগীর, ডা. সারোয়ার আলী, ঝুনা চৌধুরী, জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, রবিউর হুসাইন, আলী যাকের, সারা যাকের, কাজী রোজী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, তারিক সুজাত ও আসলাম সানী। সাধারণ সম্পাদক মো, আহ্কাম উল্লাহর স্বাগত ভাষণের পর ‘অন্তর মম বিকশিত কর’ কবিতা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শপথ বাক্যপাঠ করান। এরপর শুরু হয় পতাকা মিছিল। কেন্দ ীয় পাবলিক লাইব্রেরি থেকে গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে শেষ হয় সে মিছিল।
মিছিলের পর এই কণ্ঠযোদ্ধারা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের মাধ্যমে ২৫ জন শিশুর (ত্বকী স্কোয়াড) হাতে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন। যে ২৫ জন শিশুর হাতে পতাকা হস্তান্তর করা হয় তারা হলো—সামিউল হাসান সিয়াম, তাবিথ্যা রোজারিও জয়ী, নিধি, কাব্য, নাজরিন, কাশফিয়া, আলিফ, সাফিন শাহরিয়ার, প্রিয়া, ধ্রুব, অতুল, অমিয়া, দ্যুতি, সপ্তর্ষি, মেধা, সাদাফ, মুগ্ধ, ষড়জ, অরনিম আহমেদ, সহন, শুদ্ধ। মিছিলটি আবার পাবলিক লাইব্রেরিতে এসে শেষ হয়। এরপর বিকালে শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের কবিতার দলীয় আবৃত্তি। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে আবৃত্তি সংগঠন—কণ্ঠশীলন, বিশ্বকলা কেন্দ্র, শব্দ, ধ্বনি, স্বরকল্পন, স্রোত, সংবৃতা, স্বরচিত্র, উদীচী, মুক্তধারা, প্রকাশ, প্রজন্মকণ্ঠ, সম্পান, তক্ষশীলা, উত্স, কথা, স্বরশ্রুতি, হরবোলা, ঢাকা স্বরকল্পন, শিল্পবৃত্ত, ক’জনা, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি একাডেমি, মুক্তবাক, দৃষ্টি, কণ্ঠমালা, শ্রুতি, ষড়ঙ্গ, বৈকুণ্ঠ, চন্দ বিন্দু, আবৃত্তিচক্র, উচ্চারণ আকাদেমী, কথন, চারুবাক, স্বরূপ, বর্ণন, মিথস্ক্রিয়া, আবৃত্তি একাডেমি, উদ্ভাসন, মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ , চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদ এবং কল্পরেখা। দলীয় পরিবেশনা শেষে রাতে ফানুস ওড়ানোর মধ্যদিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানের।
