বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৯৬৩ কোটি টাকা জালিয়াতি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার জের ধরে তদন্তে নামছে বলে বৃহস্পতিবার দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটি প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া ঋণ দেয়া, অনাদায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ফোর্সড লোন পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধি, জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন, ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরিসহ নানা কৌশলে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী এ বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। আর এ কাজে তাদের ব্যাংকেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা সহযোগিতা করেছে। ব্যাংকের স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়সহ সাত শাখায় এসব জালিয়াতি ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কৃষি ব্যাংকে এ বছরের শুরুতে পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক যোগসাজশে জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া হয়েছে বলে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর জামানত ছাড়াই দেয়া ঋণগুলোর ওপর ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে এসব ঋণ আদায় অনিশ্চিত। এজন্য ওইসব ঋণ বিতরণের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছিল। ‘কৃষি ব্যাংকে হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গত ৯ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকের শেষ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়। এ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তদন্তে নামছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য নিশ্চিত করেছেন।
