অযত্ন-অবহেলায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে কসবার কল্যাণ সাগরদীঘি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৩
অযত্ন অবহেলায় কসবার গৌরব ঐতিহাসিক কল্যাণ সাগর দীঘির সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। সাগর দীঘির সংস্কার, উন্নয়ন ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনিকভাবে কোন তত্পরতা নেই। কল্যাণ সাগর দীঘিটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। মোট আয়তন প্রায় ২২ একর। দীঘির উত্তর পাড়ে রয়েছে প্রান্তিক ডাকবাংলো। এর পশ্চিমে রয়েছে সাব-রেজিস্টার অফিস, উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও কসবা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে উপজেলা পোস্ট অফিস, কসবা পুলিশ স্টেশন, কসবা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কসবা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। দীঘিটির পূর্বপাড়ে রয়েছে কসবা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিজিবি)। কসবার আদি নাম ছিল কৈলাগড়। মুসলমান শাসনামলের পূর্বে কসবা ত্রিপুরা রাজ্যের শাসনাধীন ছিল। সে সময়ই কৈলাগড় নামকরণ হয়। মহারাজ যশোধর মানিক্যের সময় কৈলাগড়ের সেনাপতি নিযুক্ত হয়ে সেখানে একটি সেনানিবাস স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিনিই ত্রিপুরার মহারাজ নিযুক্ত হন। তিনি সেনানিবাসের পশ্চিমে খনন করেন ঐ দীঘিটি। আকারে অনেক বড় বলে প্রজারা এটিকে সাগর নাম দেয়। কালক্রমে এটি আজ কল্যাণ সাগর দীঘি নামে পরিচিত। জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কল্যাণ সাগর দীঘিটি দেখাশুনা করছেন। গত কয়েক বছর যাবত্ ইজারা দিয়ে সরকার ব্যাপক রাজস্ব আয় করলেও দীঘির উন্নয়নে তথা রক্ষণাবেক্ষণে কোন তত্পরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দীঘির চারটি পাড় ভেঙে পড়ায় স্থানীয় লোকজনের চলাচলের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া দীঘির পাড়গুলো প্রভাবশালীরা দখল করে নিচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যসমৃদ্ধ কল্যাণ সাগর দীঘির প্রান্তিক ডাকবাংলো আঙ্গিনায় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করলেও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে তা সফল হয়নি। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।