পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ছেলে আর মায়ের মরদেহ দেখতে হবে হয়তো ভাবেন নি ইব্রাহীম। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। স্বজন, এলাকাবাসীর শান্তনায় কি এমন শোক ভোলা সম্ভব! ইব্রাহীমের বিলাপ, ‘মোর পোলা দুইডারে নেলো, লগে মায়েও গেলো’
গত শুক্রবার রাত তিনটার দিকে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন ইব্রাহীমের মা নূরজাহান বেগম এবং ছোট ছেলে জাহিদুল।
কান্না জড়িত কণ্ঠে ইব্রাহীম জানান, ‘অগো রেডি রাখছিলাম পরিস্থিতি খারাপ হলেই আশ্রয় কেন্দ্রে যামু। খালে পানি বাড়ছে কিনা দ্যাকতে বাইর হইছি, এ্যার মইদ্দে আচুক্কা বাতাস ছোডছে। আইয়া দেহি ঘর চাপা পইরা মোর মায় আর পোলাডা শ্যাষ।’
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউপির জেলে ইব্রাহীমের যাপিত জীবনের নির্মম বাস্তবতা এটি। অন্যের ট্রলারে মাছ শিকারে করেন ইব্রাহীম। বিষখালী ও বলেশ্বর যেখানে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে ঠিক সেখানেই ইলিশ ধরে চলে ইব্রাহীমের সংসার।
স্ত্রী, সন্তান আর বাবা-মাকে নিয়ে এক রকম ভালোই কাটছিল। ২০০৭ সালে সিডর যখন উপকূলে আঘাত হানে তখনও জীবিকার তাগিদে মাছ ধরা ট্রলারে ছিলেন ইব্রাহীম। হটাৎ ঝড়ে উল্টে যায় তার ট্রলার। সাগরের স্রোতে ভাসতে থাকেন ইব্রাহীম। এ দিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাওয়ার সময় জলোচ্ছ্বাসের প্রবল তোড়ে স্ত্রী জেসমিনের কোল থেকে ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় বড় ছেলে রবিউলের।
নিজের কোল থেকে ছিটকে পড়ে হারিয়ে যাওয়া একমাত্র ছেলের শোকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন জেসমিন। ২০১০ সালে জেসমিনের কোলজুড়ে আসে ছোট ছেলে জাহিদুল। এরপর বড় ছেলে হারানোর শোক আর অভাব-অনাটনে সংসারের দায় বইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেন জেসমিন।
আরও পড়ুন: ভোলায় বেশি দাম নেওয়ায় ৭ মাংস বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড
এদিকে দাদি-নাতির মৃত্যুর খবর শুনে ঝড়ের পরের দিন ইব্রাহীমের বড়িতে ছুটে যান বরগুনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা তুলে দেন ইব্রাহীমের হাতে।
ইত্তেফাক/অনি
