ভারতীয় হাইকমিশনারের গাড়ির কাছে বোমা বিস্ফোরণ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৬
খুলনায় ভারতীয় হাইকমিশনার পংকজ শরণের গাড়ির অদূরে ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুষ্কৃতকারীরা। এ ঘটনায় হাইকমিশনারকে বহনকারী গাড়ির চালকসহ ২ জন আহত হয়েছেন। তবে হাইকমিশনার ঘটনার সময় খুলনা চেম্বার অব কমার্স ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, হাইকমিশনারের গাড়ি থেকে বেশ দূরে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কারো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ককটেল নিক্ষেপকারীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। গতকাল বিকালে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে সিডরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত ঘরে সৌরবাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের একটি গাড়িতে খুলনায় আসেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে ভারতীয় হাইকমিশনার ডাকবাংলা মোড়ের খুলনা চেম্বার অব কমার্স ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করছিলেন। এমন সময় তার গাড়ির অদূরে তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুষ্কৃতকারীরা। খুলনার সদর থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিন আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, এ ঘটনায় চেম্বারের এক সদস্যের গাড়িচালক আব্দুল জব্বার বাবু সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি ককটেল বিস্ফোরণের পর দৌড়ে ভবনের ভেতরে ঢুকতে গিয়ে কলাপসিবল গেটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়েছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবুর পায়ে ককটেলের স্প্লিন্টার লেগেছে। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় হাই কমিশনারকে বহনকারী স্থানীয় প্রশাসনের গাড়ির চালক খোরশেদ আলমের পেটে স্প্লিন্টার লেগেছে। হাইকমিশনারকে বহনকারী গাড়ির চালক তখন গাড়িতে ছিলেন না। ককটেল নিক্ষেপকারীরা ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে এক জামায়াত কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় আজ শনিবার অর্ধ দিবস হরতাল ডেকেছে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী। এদিকে চেম্বার ভবন থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে গতকাল রাতে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে পৌঁছে দেয়। সেখানে তার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আজ শনিবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে সকালে যশোর এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেয়া হবে। সেখান থেকে তিনি একটি বিমানে করে ঢাকা যাবেন। হাইকমিশনের বক্তব্য এদিকে ভারতীয় হাইকমিশন রাতে জানিয়েছে, ককটেল হামলার ঘটনায় হাইকমিশনারের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এছাড়া হাইকমিশনার ও তার সফরসঙ্গী সবাই অক্ষত রয়েছেন। ঘটনার পর হাইকমিশনারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাশে ভারত বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ভারত বাংলাদেশের মানুষের পাশে সবসময় ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ভারত বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসাবে বাংলাদেশের মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ শুক্রবার বিকালে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে সিডরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ভারত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত সৌরবাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।