তোমাকে ছুঁইয়েছে হরিয়াল পাখি, হলুদ স্তনের বোঁটায় দীপ্ত প্রভা
দ্রাবিড় আমি, পথভুলে পুণ্ড্রনগরীর কদম্বপাতার ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছি।
তোমার শিশিরধোয়া পদ্মপাতার গোড়ালির নিচে চুমকুঁড়ি খায় ঘাসেরা
রাজলক্ষ্মী মরালগ্রীবায় বসেছে নীলভোমরা, কেশে এঁকেছো সিঁদুর প্রীতিরেখা।
তোমার নাভিমূলে কুমুদ কন্দর্পঘ্রাণ, দিগন্তজুড়ে রাজসিক সব আয়োজন
গৌরি হরিণশাবক অভুক্ত তোমার সন্দেশে, চতুর্দিকে শিব-শৈব বন্দনা
কস্তুরিসম তোমার দেহলতা সুরভি-সুরতি এক অজানার তরঙ্গিণী
নিতম্বভারে জলকম্প পুকুরে-নদীতে এবং ইন্দ্রের শয়ন মন্দিরে।
তোমাকে ছুঁয়েছে নাতাশা চাঁদ, লজ্জায় লুকোয় রাই এবং জোছনাপরীরা
বিমলা ময়ূর ভুলে যায় বর্ষার রতি এবং মৃত্যুপল্লী জেগে ওঠে হঠাত্
বিশাল সরোবর মাঝে নবছন্দে নবআনন্দে শুধু ঢেউয়ের কানাকানি
দেখেছি তোমার করতলে রক্তজবার হাতছানি, লোধ্ররেণুর মিত্র আহ্বান।
‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি, তাই ভোরে উঠেছি—
আজ শুনতে পাব প্রথম আলোর বাণী, তাই বাইরে ছুটেছি।’
