আসেন, আসেন—ও মা-বইনেরা—নিয়ে যান, নিয়ে যান
হরেক রকম কাচের চুড়ি
রিনিঝিনি, টুংটাং;
বেছে-বেছে নেন—কমলা, হলুদ, নীল...
যার যা মনের মিল।
আরো আছে এই—ময়ূরকণ্ঠী, আসমানি, লাল, কচুপাতারং
পেয়ারা-সবুজ, কচিকলাপাতা, জংলিছাপা
কল্কাপাড়ের তাঁতে বোনা কত শাড়ি...
কিনে নিয়ে যান বাড়ি।
আছে নিন খাঁটি চোখের কাজল, কপালের লাল টিপ
ভীরু দুপায়ের আলতাও আছে, ত্রিফলার তেল, চুলবাঁধবার ফিতা
আছে হাত ভরে আলপনা আঁকা মেহেদির তাজা পাতা...
কাড়াকাড়ি নয়, বাড়াবাড়ি নয়—ঠাণ্ডা রাখুন মাথা।
আছে রকমারি নাকফুল আর কানের ঝুমকা, বালা
আছে আরো আছে—শামুক, ঝিনুক, কুঁচ ও পুঁতির মালা
নিয়ে যান এই মাটির বাসন, চরকি, পাতার বাঁশি
নিয়ে যান সোনা-সুচ ও সুতায় ফুল-পাখি তোলা মনোহারী হাতপাখা
মাটির পুতুল—হোক না কিছুটা বাঁকা।
আসো, আসো পোলাপান—
পেট ভরে খাও সন্দেশ, ছানা, বাতাসা ও দই
খেতে পার গজা, কুলপিমালাই...
মুঠি ভরে নাও মুড়ি ও মুড়কি, গুড়ে মাখা যত খই
আরো আছে শোনো—নাগরদোলা ও পুতুলের নাচ—করবা না হইচই।
আসুন, ও কাকা—সাড়ে-চারহাতি গামছা নেবেন? রুহিতপুরের লুঙ্গি?
নিয়ে যান চাচা শীতলপাটিটা, হুঁকোটাও নিন, সঙ্গে পাবেন বাড়তি বাঁশের চুঙ্গি
এই যে বুড়িমা—নিয়ে যান আছে নিপট পাটের শিকা
নিয়ে যান দাদু হাতে লেখা পুঁথি, লোকনাথ পঞ্জিকা।
আসুন, আসুন দাদা...
আসুন ও ভাই—
খেয়ে যান বসে মণ্ডা-মিঠাই;
চারিদিকে বাজে ডুগডুগি, ঢোল...বলুন অমিল কিসে?
এই বৈশাখে হালখাতা খুলে থাকি সবে মিলেমিশে।
অলঙ্করণ মোহাম্মদ মোর্শেদ নাসের
