বাংলাদেশের দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন এক পর্তুগিজ নারী। মারিয়া ডি কনসিকো নামের এই নারী গত ৮ এপ্রিল এভারেস্ট অভিযানে যাত্রা শুরু করেন এবং আশা করা যায় মে মাসের মাঝামাঝি কোন এক সময় তিনি এভারেস্ট শিখরে পৌঁছাবেন। অভিযানের প্রাক্কালে এক সাক্ষাত্কারে মারিয়া বলেন, এই দুই মাস আমার জীবনের শেষ দুই মাস হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে এই অভিযানই আমার স্বপ্ন ও লক্ষ্য।
মারিয়া ডি কনসিকো ইউএই এয়ারলাইন্সের একজন বিমানবালা হিসেবে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। এদেশের দরিদ্র মানুষের করুণ অবস্থা তাকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। ২০০৫ সালে দুবাইয়ে তিনি ‘মারিয়া ক্রিস্টিনা ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে মারিয়া প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসেন। এদেশ থেকে ফিরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নির্মম অবস্থা কোনভাবেই ভুলতে পারছিলেন না তিনি। একমাস পর তাদের সাহায্যের দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে তিনি আবার বাংলাদেশে আসেন।
২০০৫ সালে পরিবার, বন্ধ-ুবান্ধব আর সহকর্মীদের সহযোগিতায় একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এদেশের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সাহায্য করতে শুরু করেন তিনি। একটি এক কামরার স্কুলে শিশুদের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তার কাজ। কারণ তিনি মনে করেন শিক্ষাই দারিদ্র্যচক্রকে ভেঙে ফেলতে পারে। ফাউন্ডেশনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এ যাবত্ মারিয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে লন্ডন এবং দুবাইয়ে ম্যারাথনে অংশগ্রহণ, কিলিমানজারো শৃঙ্গ জয়, উত্তরমেরু অভিযান এবং সাত মহাদেশে পরপর সাতদিনে তিনি সাতটি ম্যারাথনে অংশ নেন। তার র্সবশেষ চ্যালেঞ্জ ৮ হাজার ৮শ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট শিখর জয়। এপ্রিলের শুরু থেকে মারিয়া নেপালের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান করে এখানকার প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকবেন। যা তাকে এভারেস্ট অভিযানে বিশেষ সাহায্য করবে। মারিয়া আশা করেন আবহাওয়ার অবস্থা ভাল হলে সবকিছু অনুকূল থাকলে ১০ থেকে ২৭ মের মধ্যে যে কোনদিন তিনি এভারেস্ট শিখরে পৌঁছাবেন। এই অভিযানে মারিয়াকে অনেক বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। এভারেস্ট অভিযান অনেক মানুষের জীবনও কেড়ে নেয়। পর্বতারোহণে ঝুঁকিগুলোর মধ্যে ফ্রস্টবাইট, অক্সিজেন স্বল্পতা, খিটখিটে মেজাজ, শুষ্কতা, উচ্চতার রোগসমূহ উল্লেখযোগ্য। মারিয়া বলেন, প্রত্যেকটি পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ আমার জন্য একেকটি চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এভারেস্টে আরোহণ সর্বোচ্চ পরীক্ষাও বটে। এটা শারীরিক, মানসিক এবং ইমোশনালি একজন মানুষকে দুর্বল করে দেয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বস্তি ও গ্রামীণ সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষিত করা। ফলে তারা একটি সুন্দর ভবিষ্যত্ জীবন পাবে এবং ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। তাই যত ঝুঁকি ও বিপদ থাকুক না কেন এর উদ্দেশ্যটা অনেক বড়। আমরা প্রত্যেকে যদি একজনের জীবনে কল্যাণকর পরিবর্তন আনতে পারি তবে সামগ্রিকভাবে সফলতা আসবে। মারিয়ার এই সাফল্য শুধু বাংলাদেশের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে না বরং পর্তুগিজ ইতিহাসে মারিয়া ডি কনসিকো হবেন প্রথম এভারেস্ট জয়ী নারী। (সূত্র ইন্টারনেট আরো জনার জন্য— www.mariacristina Foundation.org অথবা facebook)
