হেফাজতের দাবি অযৌক্তিক ও হাস্যকর

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪২
হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফার প্রতিবাদে নারী ঐক্যের এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, তাদের দাবি শুধু অযৌক্তিক নয়; হাস্যকরও বটে। নারীকে ঘরে আটকে রাখার দিন শেষ। নারীরাই আজ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। বিভিন্ন পেশায় অংশ নিয়ে তারা পরিবারে অভাব অনটন দূর করছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সাহিত্যিক মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদা জিল্লুরসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা ১৩ দফা সম্পর্কে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। মঞ্জুশ্রী বিশ্বাস বলেন, পড়াশুনাসহ সকল চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারী-পুরুষকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আসছে। তাদের কথা মতো নারীকে পেছনে নেয়ার দফা আমরা মানবো না। তাদের একটিও দফা নেই যা আমাদের কল্যাণ করতে পারে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের এই অযৌক্তিক ১৩ দফাকে গুরুত্ব দেয়ার কোন কারণ নেই। হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে অবজ্ঞা করার মতো বিষয় এই ১৩ দফা। তবে এমন ১৩ দফা দেয়ার সাহস তারা কোথায় পেল তা আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, তাদের দাবিগুলো সংবিধানের ১১, ২৮ ও ৩৬ ধারার পরিপন্থি। এই ধারাগুলোতে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা, সমান অধিকার ও অবাধ বিচরণের বিধান আছে। তারা নারী নির্যাতন, শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন নি। নারীর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে তত্পর হয়েছেন। নারী নীতি, শিক্ষানীতিকে বাদ দিয়ে তারা নারীর শত্রুতে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ধর্মে নারীর মর্যাদা নিয়েও আলোচনা করা হয়।