বাংলা নববর্ষ ১৪২০ উপলক্ষে আজ রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্র ও নারী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগ: বর্ষবরণ করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন আজ সকাল ৭টায় রাজধানীর বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে শোভাযাত্রা বের করবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে শোভাযাত্রাটি ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হবে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় গতকাল শনিবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম। মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ছায়ানট: বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরকে বরণ করে নেয়ার সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় আয়োজন রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। ছায়ানটের তথ্য, জনসংযোগ ও প্রচার বিভাগের সমন্বয়ক হেলাল আহমেদ জানান, বিকালে রমনার বটমূল মঞ্চে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রভাতী আয়োজনের চূড়ান্ত মহড়া। আজ ভোর সোয়া ছয়টায় এসরাজ-বাঁশি-বেহালার সুরালাপ দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। গান ও কথায় আয়োজনকে মাতিয়ে রাখবেন ছায়ানটের শিল্পী ও সঙ্গীতবিদ্যায়তনের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংহতি জানিয়ে পরিবেশনায় প্রাধান্য পাবে স্বদেশ পর্যায়ের গান। ছায়ানটের অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ছায়ানটের এবারের আয়োজনে সম্মেলক গানের দলে সব মিলিয়ে অংশ নেবেন ১১০ শিল্পী। এর মধ্যে ছোটদের দলে গাইবে ৪২ শিশুশিল্পী। বড়দের দলে গানের পরিবেশনায় অংশ নেবেন ৬৮ কণ্ঠশিল্পী। একক কণ্ঠে গান শোনাবেন ১৪ জন। কবিতা আবৃত্তি ও পাঠে ৩ জন অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন দশ জনের যন্ত্রী। বরাবরের মতো প্রভাতী এ আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটবে ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুনের বৈশাখী কথনের মধ্য দিয়ে। এবারের প্রভাতী আয়োজনে শিল্পীদের পোশাকে থাকবে লাল-সবুজের ছোঁয়া। ছেলেরা পড়বে লাল পাঞ্জাবি আর মেয়েদের পরনে থাকবে সবুজ শাড়ি। খোঁপায় থাকবে বেলী ফুলের মালা।
চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা: বর্ষবরণের অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ‘রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ অনিঃশেষ’ শ্লোগান নিয়ে আজ সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের কারণে এবারের শোভাযাত্রার যাওয়ার পথ সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। শোভাযাত্রাটি চারুকলার সামনে থেকে শুরু হবে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে শোভাযাত্রাটি শেষ হবে।
বরাবরের মতো লোকজ ধারার শিল্পকর্ম থাকবে শোভাযাত্রাজুড়ে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রসঙ্গটি। এই বিষয়টি উপস্থাপন করতে বিরাট এক সরীসৃপের মাথায় থাকছে যুদ্ধাপরাধীর ভয়ঙ্কর মুখ। প্রায় ৬৫ ফুট দীর্ঘ সরীসৃপাকৃতি এই শিল্পকর্মটি অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হবে। ‘বিদ্রোহী ষাঁড়’ শিরোনামে শিল্পকর্মে তুলে ধরা হবে জনতার প্রতীক হিসেবে। দেশের চলমান অস্থিরতা ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জনতার সোচ্চার প্রতিবাদ হিসেবে এই শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। ১৫ ফুট উচ্চতার ‘শান্তির পায়রা’ শিল্পকর্মে তুলে ধরা হবে দেশের মানুষ শান্তি চায়- কোনো হানাহানি নয়। শোভাযাত্রায় থাকছে যশোর-ঝিনাইদহের লোকজ শিল্পকর্ম ‘শোলার জোড়াপাখি’। এই শিল্পকর্মটি অসাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব পরিহার করে শান্তির পথে আসার আহ্বান করা হবে। থাকবে মুষ্টিবদ্ধ হাত, বিদ্রোহের শিল্পকর্ম। মূলত এটি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতীক। শোভাযাত্রায় থাকবে ১২টি টাট্টু ঘোড়া। আরো থাকছে বড়ো-ছোটো প্রায় ১০০টি মুখোশ। মুখোশে তুলে ধরা হবে রাজা-রাণী, উজির-নাজির, লক্ষ্মীপ্যাঁচা, খরগোশ, বাংলার বাঘ, ধূর্ত শেয়ালের প্রতীক। শোভাযাত্রায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
সুরের ধারা ও চ্যানেল আই: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ ‘হাজারও কণ্ঠে কোটি বাঙালির বর্ষবরণ’ শিরোনামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সুরের ধারা ও চ্যানেল আই। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সবার জন্য উন্মুক্ত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন হাজারও কণ্ঠশিল্পী। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও সুরের ধারার অধ্যক্ষ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগম। তিনি সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলবেন।
বিএনপি: মহিলা দলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে লোকজ মেলা। এছাড়াও বিকাল ৩টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাসাস।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী:আজ সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে সমবেত সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, কাব্যনাট্য, পটগান, বাউল গান ও বৈশাখী মেলা।
বাংলা একাডেমী: বাংলা একাডেমীর বর্ষবরণ কর্মসূচি শুরু হবে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় একাডেমীর নজরুল মঞ্চে। নববর্ষের বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক করুণাময় গোস্বামী। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সকাল ৯টায় একাডেমীর নজরুল মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সকাল ১১টায় রবীন্দ্রচত্বরে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিসিক ও বাংলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে একাডেমীর প্রাঙ্গণে আজ ১০ দিনের বৈশাখী মেলার উদ্বোধন হবে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট:ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চে আজ বিকাল ৪টায় লোকসঙ্গীতের আসর ও নৃত্যনাট্য পালা অনুষ্ঠিত হবে।
ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী: ‘জাগো নব আনন্দে’ স্লোগান নিয়ে শাহবাগের শিশুপার্কের সামনে নারকেলবীথি চত্বরে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় বর্ষবরণ করা হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাব: দিনব্যাপী উত্সব আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে আজ সকাল ৯টায়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) : আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ইউনিটির কার্যালয়ে চলবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা:আজ সকাল ১০টায় কচি-কাঁচার মিলনায়তনে আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
প্রভাত চন্দ্রিমা:আজ সকালে চন্দ্রিমা উদ্যানে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। সভাপতিত্ব করবেন কে আলম চৌধুরী।
দনিয়া সাংস্কৃতিক জোট: দনিয়াস্থ বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সংলগ্ন সড়কে আজ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করেছে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এর মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা।
বাংলালিংক:ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, যশোর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা এবং সিলেটে এ প্রতিষ্ঠান একযোগে উত্সবের আয়োজন করেছে।
রবি: ৬৪টি জেলায় এ প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী উত্সব।
এয়ারটেল: দেশের প্রায় সব জেলাতেই এ প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
তারকা হোটেল, ক্লাব ও রেস্তোরাঁর প্রস্তুতি: রূপসী বাংলা, হোটেল সোনারগাঁও, ব্লু ওয়াটার গার্ডেন, হোটেল রেডিসন, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সি, সারিনা, পূর্বাণী, গ্রান্ড আজাদ, সুন্দরবন, ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, খাজানা রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন অভিজাত হোটেল, ক্লাব ও রেস্তোরাঁয় পহেলা বৈশাখ পালিত হবে।
কনসার্ট: ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে কনসার্টে আয়োজন করেছে ব্যান্ড দল দূরবীন। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে এ অনুষ্ঠান। ধানমণ্ডি আবাহনী মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কনসার্ট ‘বৈশাখী উত্সব ১৪২০’। এতে অংশ নেবেন মাকসুদ ও ঢাকা, চিরকুট, জলের গান এবং ব্রাদারহুড প্রজেক্ট। আরো থাকবে টুনটুন বাউল ও রব ফকিরের পরিবেশনা। দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলবে এ অনুষ্ঠান। এছাড়া দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কনসার্টের আয়োজন করেছে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক।
