প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা গ্রহণের সকল বাধা দূর করে প্রতিবন্ধী বান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় শক্তিশালী কমিশন গঠনসহ নতুন আইন প্রণয়নের জন্যও সরকারের প্রতি দাবি জানান। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘‘প্রমোটিং রাইটস অব দ্য চিলড্রেন উইথ ডিজ্যাবিলিটিস থ্রু ইনক্লুসিভ এডুকেশন’’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বিপুলসংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশুকে শিক্ষা প্রদান করতে হলে একিভূত শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান খান এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক জুলফিকার হায়দার, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি রজব আলী খান নজীব, বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যাপক সুফিয়া হক, ডিজ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জাহান, মতিঝিল থানা শিক্ষা অফিসার জাহিদা সিদ্দিকা, দ্বীপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সলিমুল্লাহ ।
প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা মনে করা উচিত নয়, তাদের স্নেহ-মমতা দিয়ে এবং নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী-বান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নানা কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও কাজ করে গেছেন।
বিশেষ অতিথি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক জুলফিকার হায়দার বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের থাকার জন্য সারাদেশে ২০টি হোস্টেল ও তাদের সাবলম্বী করতে ৬টি বিভাগীয় শহরে ৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে সারাদেশে প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচি সফল হলে সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাগ্য উন্নয়নে আরো অধিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
ডিজ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জাহান বলেন, সমাজের সকল শ্রেণীর শিশুদের সমাজের মূলস্রোত ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাসহ প্রচলিত সকল অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে তার সংগঠন রাজধানীর মোহাম্মদপুর, রামপুরা, খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকায় ১০টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা প্রতিবন্ধীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, তাদের মাঝে বই, খাতাসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন। এই প্রতিষ্ঠানে ৫০ থেকে ৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে।
জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি রজব আলী খান নজীব বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য একিভূত শিক্ষার প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ আইন প্রণয়ন করা দরকার। অধ্যাপক সুফিয়া হক বলেন, একিভূত শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
কর্মশালায় বক্তারা আরো বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের এখন আর বিশেষ শিশু বলে তাদের আলাদা করে রাখার কিছু নেই। প্রতিবন্ধী শিশুরাও যেন তাদের বাড়ির পাশের স্কুলটিতে পড়তে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে। বক্তারা সুপারিশ করে বলেন, এসব শিশুর শিক্ষার জন্য সহজ পাঠ্যক্রম তৈরি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধিতা বিষয়টির উপর প্রশিক্ষণ দেয়াসহ এ বিষয়টি সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হলে তাদের শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের জন্যে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক গরিব পরিবার তাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে উদাসীন থাকে। এ কারণে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য উপবৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৃত্তির টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে তাদের উত্সাহ বাড়বে।
