যেকোনো ব্র্যান্ডের মার্কেটিংয়ে অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির ভূমিকা এখন অনস্বীকার্য। একটি ব্র্যান্ডকে সাধারনের সামনে তুলে ধরতে ও তার পণ্যকে ভোক্তার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে মূল ভূমিকাটাই একটি অ্যাড এজেন্সির। উন্নত দেশগুলোতে অ্যাড অ্যাজেন্সির চর্চা বহু আগে থেকে থাকলেও এ দেশে এর গুরুত্বটা খুব বেশি দিনের নয়। তবুও খুব অল্প সময়ে দেশের প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানই নিজেদের ব্র্যান্ডিং ও সেলসের জন্য এখন অ্যাড অ্যাজেন্সিতেই নির্ভর। এ দেশে এখন ছোট-বড় বহু অ্যাজেন্সি রয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত অ্যাড এজেন্সির মধ্যে প্রচারণ কমিউনিকেশন লিমিটেড এখন অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীন রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে দেশের বর্তমান অ্যাড অ্যাজেন্সির বাজার, ভূমিকা ও ভবিষ্যত্ নিয়ে। সাক্ষাত্কারটি লিখেছেন মাহবুব শরীফ
প্রচারণের শুরু এবং বর্তমান অবস্থানটা যদি একটু তুলে ধরেন-
প্রচারণের শুরুটা খুবই ড়্গুদ্র ছিলো। আমরা চার বন্ধু মিলে ২০০৮ সালে ১শ স্কয়ার ফিট একটা রুমের মধ্যে একটা সিআরটি মনিটরের পিসিতে মাত্র ৫ হাজার টাকা থেকে যাত্রা শুরু করি। আজকের এই ১১ বছরে আমরা দেশের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছি। ধীরে ধীরে আমাদের অফিসের সীমানা অনেক বড় হয় এবং বর্তমান অ্যাডভার্টাইজিং ইন্ডাস্ট্রিতেও আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়েছে। দেশের একদম টপ ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাজ হচ্ছে নিয়মিতই। এখনকার অবস্থান থেকে আমাদের শুরুর অবস্থানটা মনে করলে একদম কাল্পনিক মনে হয়।
প্রচারণ এখন কী কাজ করছে, প্রচারণের উলেস্নখযোগ্য কাজ কী কী?
প্রচারণ নিয়মিতই ইভেন্ট, অ্যাক্টিভেশন, টিভিসি, ওভিসি, প্রেস অ্যাড, ক্যাম্পেইন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ব্যস্ত। সামনেই বৈশাখ, রোজা এবং ঈদ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো উত্সবকে ঘিরেই অ্যাজেন্সির কাজ থাকে তুঙ্গে। উল্লেখযোগ্য কাজের কথা যদি বলি, তাহলে এনার্জিপ্যাক গ্রুপের ইভেন্ট-অ্যাক্টিভেশনসহ বহু বড় বড় প্রজেক্ট করেছি আমরা। ইউএসএইড, সেভ দ্যা চিলড্রেনের বড় কিছু ইভেন্টের কাজ করেছি। সুপারস্টার গ্রুপের ইভেন্টগুলো নিয়মিতই করে থাকি। কনকর্ড গ্রুপের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজসহ বিভিন্ন প্রেস অ্যাডের কাজ করেছি। মেটাল গ্রুপের ব্র্যান্ডিংয়ের প্রায় সব ধরনের কাজ এবং ইভেন্টের কাজ করেছি। কোকাকোলা, লাভা, মেরিকো, সিএ বাংলাদেশ, বিমান বাংলাদেশ, এশিয়ান টাউন লিমিটেড, ইনসি সিমেন্ট, জ্যাক মটরস, এডিসন গ্রুপ, কেএসআরএম, বঙ্গজ গ্রুপ, ডিলাক্স, এডেক্সেল, এঅ্যান্ডই, ম্যাক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড, রুপায়ন গ্রুপ, বিআরবি ক্যাবলস, গোল্ডমার্ক, আইসিটি ডিভিশন, ইউনিলিভার, মাইক্রোসফটসহ অসংখ্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাঙ্গে কাজ করেছি এবং করছি।
অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাজেন্সির মূল কাজগুলো কী কী? এটা যেকোনো ব্র্যান্ডের জন্য কী ভূমিকা রাখে?
যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মূল ফোকাসের জায়গাটাই হচ্ছে অ্যাডভার্টাইজিং অথবা মার্কেটিং। এটিই যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের দূর্বল থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান কখনোই তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। অ্যাজেন্সি মূলত একটি ব্র্যান্ডের যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য এবং পণ্যটি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে যা যা করণীয় তার সবই করে থাকে। আমরাও করে থাকি। এর মধ্যে যেমন- প্রেস অ্যাড, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইভেন্ট, অ্যাক্টিভেশন, ক্যাম্পেইন, টিভিসি, ওভিসিসহ নানা ধরনের কার্যক্রম আছে। এর সবই একটা ব্র্যান্ডকে ভোক্তাদের কাছে যথোপযুক্তভাবে পৌঁছে দেয়। শুধু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নয়, ভোক্তাদের জন্যও বিষয়টি একইভাবে প্রয়োজনীয়। বাজারে প্রতিনিয়মিত হাজারো পণ্য বা সেবা আসছে। ভোক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী সেই পণ্য বা সেবাগুলোকে তার দ্বারপ্রান্তে তথ্যটি পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে করে ভোক্তারা উপকৃত হন।
অ্যাড অ্যাজেন্সির ক্যারিয়ারটা কেমন?
এখনকার তরম্নণরা অ্যাড অ্যাজেন্সিতে কাজ করতে অধীর আগ্রহী। এর মূল কারণটা হলো- বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকে এখানে, এতে করে ওই তরুণ-তরুণীর নিজ পোর্টফোলিওটা যথেষ্ট মজবুত হয়। আর একটি মজবুত পোর্টফোলিওই একজনের সুন্দর ক্যারিয়ার সাজায়। এছাড়া, অ্যাড অ্যাজেন্সিতে প্রচুর ক্রিয়েটিভ কাজের সুযোগ থাকে। প্রচুর বলা যাবে না, পুরোপুরিই ক্রিয়েটিভ কাজের সুযোগ থাকে। আর সৃজনশীল কাজ করতে কে না পছন্দ করে। যদি তার করা কোনো কাজ বাজারে খুব সাড়া ফেলে এটা তার ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলস্টোন হয়ে দাঁড়ায়। এখানের কাজের ধরণটা পুরোপুরিই স্বাধীন। কর্পোরেট অফিসের মতো সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে কিন্তু বাধ্য-বাধকতা ততটা নেই। আর আমরা যারা এই অ্যাজেন্সি পরিচালনা করছি, তাদের ক্যারিয়ারটাও নিশ্চিতভাবে উজ্জ্বল। তবে, শুরু করে অনেকেই সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বাজারে টিকে থাকতে পারে না। যদি কেউ টিকে যায় তাহলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না।
ুকেউ যদি এখানে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাহলে কীভাবে শুরু করবে?
এই ইন্ডাস্ট্রিতে স্কিলড ব্যক্তিদের প্রাধান্য বেশি। শুধু এখানেই নয়, সব ড়্গেত্রেই স্কিলডদের গুরম্নত্ব বেশি। তবুও এখানে যথেষ্ট পরিমাণে ফ্রেশারদের কাজের সুযোগ থাকে। ইভেন্ট, অ্যাক্টিভেশন, মার্কেটিং, সেলস, কপিরাইটিং, কনটেন্ট রাইটিং, স্ক্রিপ্টরাইটিংসহ ক্রিয়েটিভেও ফ্রেশারদের অনেক সুযোগ আছে। আর বাজারে অ্যাজেন্সির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ফ্রেশার এবং অভিজ্ঞদের কাজের সুযোগ এবং পরিধি অনেক বড়। সামনে এটা আরও বৃহত্ হবে।
