ব্যাক বেঞ্চার ছেলেটিই আজ গুগলের শীর্ষস্থানীয়

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১৯:৩৯

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহূত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ জাহিদ সবুর। ডিরেক্টর পদমর্যাদার এই পদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি।

গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা এক ভিডিওতে জাহিদ নিজেই তাঁর পদোন্নতির খবর জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত ২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতির ব্যাপারটি জেনেছেন। গুগলে বর্তমানে একলাখেরও বেশি কর্মী কাজ করেন। সেখানে এমন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা মাত্র ২৫০ জন।

সৌদি আরবে জন্ম নেওয়া জাহিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে। তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন সৌদি আরবের কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আট বছর বয়সে জাহিদ তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেশে ফিরে আসেন। দেশে প্রথমে পড়াশোনা করেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে ‘এ’ লেভেল এবং ‘ও’ লেভেল সম্পন্ন করেন অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। স্কুলে পড়ার সময়ে প্রতিবছরই বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান লাভ করতেন তিনি। কিন্তু একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো ছিলেন না। পাঠ্যবইয়ের পড়া মুখস্থ করতে একদমই পছন্দ করতেন না। ফলে রেজাল্টও ভালো করতে পারতেন না। যথারীতি ‘এ’ লেভেল এবং ‘ও’ লেভেলে খুব একটা ভালো না করতে পারার কারণে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তবে তিনি কম্পিউটার প্রকৌশলে পড়তে চাইতেন, শেষমেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) ভর্তি হন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এরপর আর থেমে থাকেননি জাহিদ। সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেক সময় অনেকের কটুক্তি শুনতে হয়, জাহিদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে তিনি দমে যাননি। প্রচুর পড়াশোনা ও পরিশ্রম তাকে এনে দেয় প্রাথমিক সাফল্য। ২০০৭ সালে এআইইউবি থেকে মাস্টার্সে সিজিপিএ-৪ নিয়ে বের হন প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে।

এরপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সুযোগ পান গুগলে। গুগলের ভারত অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তাঁর প্রথম প্রকল্প ছিল গুগলের ব্যাকএন্ড সিস্টেম নিয়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের মেধা, মনন ও অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে একসময় জায়গা করে নেন গুগলের কোড বেজের ইঞ্জিনিয়ারদের শীর্ষে। ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে এবার তিনি ডিরেক্টর পদমর্যাদার প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার পদ পেয়েছেন। এই পদে কর্মরতদের আয় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

জাহিদ সবুর বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া নিয়ে অনেকেরই নেতিবাচক ধারণা আছে। সাধারণত ধারণা করা হয়, যাঁরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তাঁরা মেধাবী নয়। কেবল আর্থিক সামর্থ্য থাকলেই অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যায় ভেবে অনেকে একে খাটো করে দেখেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভালো ফলাফল করা ও সফল হওয়ার জন্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে কিছু যায় আসে না। সফল হতে হলে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রমই আসলে প্রয়োজন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা ভিডিওতে তিনি আরো বলেন, ‘ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দেশের তরুণেরা ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের ওপর জোরারোপ করলে তা কর্মক্ষেত্রে তাদের অনেকাংশে এগিয়ে নেবে।’

এছাড়া তিনি সবার দোয়ায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।