পুলিশ অধ্যাদেশ-২০১৩ (খসড়া) প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন এ অধ্যাদেশ প্রণয়নের জন্য মতামত চেয়ে পুলিশ সদর দফতরের প্ল্যানিং এ্যান্ড রিসার্চ (পি এ্যান্ড আর) শাখা থেকে পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। এর আগে স্থগিত হয়ে যাওয়া পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৭ (খসড়া)-এর আদলেই নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলে পুলিশ সদর দফতরের পি এ্যান্ড আর শাখা সূত্রে জানা গেছে। এবারে পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৭ (খসড়া) আপত্তি দেয়া ধারাগুলো পুলিশ অধ্যাদেশ-২০১৩ (খসড়া) তে রাখার পক্ষে ইতিমধ্যে মত দিয়েছেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ পুলিশ সদর দফতরের প্ল্যানিং এ্যান্ড রিসার্চ শাখায় পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ অধ্যাদেশ-২০১৩ প্রণয়নের জন্য পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বৈঠকে পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৭ (খসড়া) ধারাগুলো নিয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করেন। এর আগে পুলিশ রিফর্ম-প্রজেক্টের (পিআরপি) অধীনে ২০০৭ সালে পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৭ (খসড়া) প্রণয়ন করা হয়। ১৮৬১ সালের পুলিশ রেজ্যুলেশন অব বেঙ্গল(পিআরবি) পরিবর্তন করে একটি যুগোপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রণয়ন করা হয় পুলিশ অধ্যাদেশ-২০০৭। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অধ্যাদেশের খসড়া পাঠানো হয় তত্কালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে। তখন অধ্যাদেশটি অনুমোদন করার আগে জনমত যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। অধ্যাদেশ অনুমোদনের পক্ষে ৭০ হাজার লোক মত দেয়। মতামতসহ অধ্যাদেশটি আবার তত্কালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়। তিনি মতামতসহ অধ্যাদেশটি পর্যালোচনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্কালীন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠন করা হয় পর্যালোচনা কমিটি। এ কমিটি অধ্যাদেশের ২৩টি ধারাসহ কয়েকটি উপধারার ব্যাপারে আপত্তি জানায়। যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি জানায় তার মধ্যে প্রধান ধারাগুলো হলো সাত নম্বর ধারায় পুলিশের আইজি নিয়োগ প্রক্রিয়া, আট নম্বর ধারায় এএসপি নিয়োগ, ১০ নম্বর ধারার ১ এর উপধারায় সরকার কর্তৃক পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতা না থাকা, ১১ নম্বর ধারায় পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতা, ১২ নম্বর ধারায় ইউনিট প্রধানের ক্ষমতা, ১৩ নম্বর ধারায় পুলিশের আইন উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, ১৫ নম্বর ধারায় জেলা পুলিশ সুপারের ক্ষমতা, ৩৭ নম্বর ধারায় জাতীয় পুলিশ কমিশন গঠন, ৬৮ নম্বর ধারায় পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতি, ৯৮ ধারায় পুলিশ প্রধানের ক্ষমতা ইত্যাদি।
