অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার প্রত্যয়

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৪
অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মধ্য দিয়ে জাতি উদযাপন করলো বাংলা নববর্ষ। ১৪২০ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে উত্সবে মেতে উঠেছিল সারা দেশ। গত রবিবার ভোরে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়ে যায়। দেশ জুড়ে মানবতা বিরোধীদের অপতত্পরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতায় পুরো জাতি হাঁপিয়ে উঠেছিল। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সমস্ত গ্লানি ধুয়ে-মুছে অগ্নিস্নানে শুদ্ধ করার বারতা নিয়ে এসেছে বৈশাখ। সারাদিন ধরে নানা আনন্দ আয়োজনে অংশ নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিলেন শুভবুদ্ধির অগণিত মানুষ। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় দিয়ে শুভ সম্ভাবনার নতুন দিন আনবার প্রত্যয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতেছিল সবাই। প্রকৃতির নিয়মে আসে বৈশাখ। কিন্তু পহেলা বৈশাখ জাতির জীবনে আসে দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়ে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার প্রত্যয়ে। গানে, কবিতায়, নৃত্যে, শোভাযাত্রায় সবার জন্য মঙ্গল প্রত্যাশা করলেন দেশের মানুষ। চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথাই ফুটে উঠেছিল সার্থকভাবে। অশুভ শক্তির রক্তচক্ষু, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বেড়াজাল ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি উত্সবমুখর বাঙালিকে। তারা এসেছেন দলে দলে। সমুদ্রের ঢেউয়ের মত মানুষের স্রোত আছড়ে পড়েছিল রমনা বটমূলের ছায়ানটের অনুষ্ঠানে। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছিল শাহবাগ, রমনা, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, বনানী, গুলশান, উত্তরা, মিরপুরসহ আশেপাশের অনুষ্ঠান স্থলগুলোতে। চড়া রোদ উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে লাখ লাখ মানুষ মিলেছে এই প্রাণের উত্সবে। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে- মানুষের সে াত কেবলই বেড়েছে। সবার চোখে ছিল বাংলা মায়ের প্রতি ভালোবাসার ছবি, কণ্ঠে ছিল অশুভ শক্তি বিনাশী গান। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ঢাকার রাজপথে বসেছিল প্রাণের মেলা। প্রত্যুষে বৈশাখী উত্সব ও বর্ষবরণকে উপলক্ষ করে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে লাখো নর-নারী-শিশু। সোনারগাঁও হোটেল থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে চানখাঁরপুল, সায়েন্স ল্যাব থেকে মত্স্য ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পথে পথে, রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভেসে গিয়েছিল বাঙালির প্রাণের জোয়ারে। বেইলি রোড এলাকা, বারিধারা, গুলশান, উত্তরাতেও ছিল খণ্ড খণ্ড অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন। এসব মেলায় চলেছে কেনাকাটা ও পান্তা খাওয়ার ধুম। চিরকালের বাঙালি এখন শহরবাসী হয়েও ভুলে যায়নি তাদের ঐতিহ্য। মেয়েরা এসেছে খোঁপায় ফুল আর ঐতিহ্যবাহী লাল-পেড়ে সাদা শাড়ি পরে। ছেলেরাও পাঞ্জাবি, ফতুয়া, লোকজ মোটিফের টি-শার্ট পরে বৈশাখী আমেজে সেজেছে। শিশুরাও কম যায়নি। টুকটুকে ঠোঁটে, পায়ে আলতা মেখে শাড়ি পরে বা পাঞ্জাবিতে তারাও মেতে ওঠে বৈশাখী আনন্দে। মনের রংয়ের সঙ্গে শরীরকে রাঙিয়ে তুলতে শহর জুড়ে ব্যস্ত ছিল চারুকলার শিক্ষার্থীরা। রং-তুলির আলতো পরশে তারা গালে এঁকে দিয়েছে আলপনা। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় রমনার বটমূলে যথারীতি ছিল ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সুরমূর্ছনায় শুরু হয় আয়োজন। পার্শ্ববর্তী শিশুপার্কের নারিকেল বীথিতে ছিল ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর বিভিন্ন পার্কে ছিল বৈশাখের প্রভাতী অনুষ্ঠানের অসংখ্য আয়োজন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারার আয়োজনে হাজার শিল্পী একসঙ্গে গেয়ে উঠেছিলেন গান। বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছিলেন ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশিরাও। এদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, হল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা। বৈশাখ বরণের আয়োজন সন্ধ্যার পরেও ছিল জমজমাট। চারুকলা ইন্সটিটিউট ছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন লাখো মানুষ। পুরো নগরীতে উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়লে নগরী জুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ভয়াবহ যানজট। অনেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে মাইলের পর মাইল মানুষকে পায়ে হেঁটে ঘরে পৌঁছাতে হয়েছে। বৈশাখ বরণের একটা বড় আকর্ষণ ছিল রাস্তার ওপরে নানা হস্তশিল্পের মেলা। মাটির তৈরি নানা জিনিস, কাঠের খেলনা ইত্যাদির পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন অসংখ্য বিক্রেতা। বাংলামোটর মোড় থেকে দক্ষিণে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে দিনভর চলে বেচাকেনা। বর্ষবরণের সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নানা আনন্দ আয়োজনের পাশাপাশি ছিল পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ধুম। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় রক্ত লোলুপ দানবের ঠোঁটের ফাঁকে বেরিয়ে এসেছে দাঁত, মাথায় রক্তলাল শিং; বিশালাকার কালো সেই দানবের হাতও রক্তাক্ত। বুকে অপশক্তির পরিচয় চিহ্ন। তার পেছনেই বিশালাকার এক সরীসৃপ। ঘাড় ঘুরিয়ে মুখ থেকে ছুঁড়ছে আগুন। ষাট ফুট লম্বা দেহটা চলছে এঁকেবেঁকে। স্বাধীন বাংলার সবকিছু যেন সে নষ্ট করে দিতে চায়। বাঙালির রক্তপিপাসু এসব দানবকে পরাজিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায়’ বাঙালি বরণ করেছে বাংলা ১৪২০ সনকে। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার থিম ছিল ‘রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ অনিঃশেষ’। প্রতিবারের মতো এবারো পহেলা বৈশাখের সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষে শোভাযাত্রায় যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। কারো হাতে বাঘের মুখোশ, কারো হাতে হাতপাখা, কেউবা নিয়েছেন একতারা-দোতারা। বাঙালির ঐতিহ্যকে ধারণ করে এ মঙ্গল শোভাযাত্রা ঢাক-ঢোল আর বাঁশি বাজিয়ে এগিয়ে চলে রাজপথ ধরে। হাতির পিঠে তীরধনুক নিয়ে সওয়ার যোদ্ধা, শোলার পাখি, রিকশায় সওয়ার টেপা পুতুল, রোষে উন্মত্ত ষাঁড়, বিশালদেহী ‘রাজাকার’ আর শান্তির পায়রার প্রতীক নিয়ে বৈশাখী সাজে এই শোভাযাত্রায় যোগ দেন আবালবৃদ্ধবনিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, উপ-উপাচার্য সহিদ আখতার হুসাইন, চারকলা অনুষদের ডিন সৈয়দ আবুল বারক আলভি, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এ জে এম শফিউল আলম ভুঁইয়া অংশ নেন এই মঙ্গল শোভাযাত্রায়। শোভাযাত্রার নিরাপত্তা দিতে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসির সদস্যরাও ছিলেন। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে হোটেল রূপসী বাংলা গিয়ে আবার ফিরতি পথে টিএসসি হয়ে চারুকলায় এসে শেষ হয় এ শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম আয়োজক সুমন বৈদ্য বলেন, তরুণ প্রজন্মসহ সবার দাবি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি, রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ। সেই দাবিকেই শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রূপকের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমরা বাঙালির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। হাজার কণ্ঠে কোটি বাঙালির বর্ষবরণ গানে গানে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে সুরের ধারা ও চ্যানেল আই। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রবিবার ভোর থেকে সুরের ধারার হাজারো শিল্পীর কণ্ঠে ছিল বৈশাখের আবাহনী গান। ভোরে সেতার ও সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশনের ফাঁকে ছিল একক সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশনা। বৈশাখী কথনে অংশ নেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও সুরের ধারার সভাপতি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগম, লালন কন্যা ফরিদা পারভীন, সৈয়দ আবদুল হাদী, রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা, চন্দনা মজুমদার, কুমার বিশ্বজিত্, আইয়ুব বাচ্চু, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, লিলি ইসলামসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিল্পী। এছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাহিদুর কবির লিটন, রেবা সরকার, জহির আলীম, অনিমা মুক্তি, এনামুল হক, লীনা তাপসী, ছায়া কর্মকার, ইয়াকুব আলী, শিমু দে, অভিক দেব, আদৃতা আনোয়ার, হিমাদ্রী শেখর, স্বপন বিশ্বাস, রোকাইয়া হাসিনা, শাহনাজ নাসরীন, আজিজুর রহমান, সরওয়ার হোসেন. সুমাইয়া ইমাম, ফাহিম হোসেন, কৃষ্ণ আচার্য্য, মফিজুর রহমান, স্বাতী সরকার, প্রান্তিকা সরকার প্রমুখ। বাংলা একাডেমীঃ নববর্ষ বক্তৃতা ও লোকজ মেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমী। নজরুল মঞ্চে একাডেমীর শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ গানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। নববর্ষ বক্তৃতা প্রদান করেন ড. করুনাময় গোস্বামী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি ইমেরিটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান। সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্যগীত পরিবেশন করে শিশু একাডেমী এবং পল্লবী ডান্স সেন্টার। গাজী আবদুল হাকিম বাঁশি এবং দশরথ দাশ দেশি ঢোল বাজিয়ে শোনান। রবীন্দ্র মঞ্চে ছিল ওসমান গণি ও তার দলের ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। এদিকে, নববর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে হ্রাসকৃত মূল্যে একাডেমী প্রকাশিত বইয়ের আড়ং। বিসিক ও বাংলা একাডেমীর যৌথ আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। শিল্পকলা একাডেমীঃ ‘বত্সরের আবর্জনা দহূর হয়ে যাক, এসো হে বৈশাখ’ স্লোগান নিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমী। একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সাংস্কৃতিক পর্বে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে রনতা শিল্পী গোষ্ঠী, পঞ্চভাস্বর ও শিল্পকলা একাডেমী। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমীর নৃত্য রেপাটরি গ্রুপ। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন বেলায়েত হোসেন খান, ঝর্ণা সরকার, আহকামউল্লাহ ও মাহিদুল ইসলাম। একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুজিত মোস্তফা, ফারহানা আক্তার, সুমন চৌধুরী, সালমা আকবর, ইলোরা আহমেদ, রোকেয়া আক্তার, মলিনা, তিমির রায়, জমশের আলী দেওয়ান, প্রশান্ত শিকদার, অনিমা মুক্তি গোমেজ প্রমুখ। জাতীয় জাদুঘরঃ জাতীয় জাদুঘর এবং ‘প্রত্যয় ও প্রতিপালক’র যৌথ উদ্যোগে জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে লোক সঙ্গীতানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পীরা। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় ‘প্রত্যয় প্রতিপালক ও লোকনাট্য দল (বনানী)’। ঋষিজ শিল্প গোষ্ঠীঃ শিশুপার্কের প্রবেশ দ্বার সংলগ্ন নারকেল বিথী চত্বরে ঋষিজের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন। একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে ফকির আলমগীর। এছাড়া, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে লোকজ সঙ্গীত আসরের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এখানে পরিবেশিত গান, নাচ ও পুঁথিপাঠ। এদিকে, রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। উড়ানো হয়েছে রং-বেরংয়ের বেলুন। পালকিতে চড়েছেন বর-কনে। হাতে হাতে ছিল ‘এসো হে বৈশাখ’ লেখা সম্বলিত বরণডালা। প্রশাসক নজরুল ইসলামসহ সংস্থার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ক্লাব সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য নববর্ষের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটেও ছিল বর্ণিল আয়োজন। এই আয়োজনে সদস্যরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সাগর বাউল, সুমি শবনম, ক্লোজআপ তারকা রাফাতসহ অনেকে। আয়োজনের এক পর্যায়ে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও উদযাপন কমিটির আহবায়ক ইলিয়াস হোসেন। বাংলালিংক—ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, যশোর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা এবং সিলেটে একযোগে উত্সবের আয়োজন করে। দুপুর থেকে রাত অবধি কনসার্টের আয়োজন করে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সরগম ললিতকলা একাডেমী, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেছে। রূপসী বাংলা, হোটেল সোনারগাঁও, রেডিসন, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সি, সারিনা, পূর্বাণী, গ্রান্ড আজাদ, সুন্দরবন, ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, খাজানা রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন অভিজাত হোটেল, ক্লাব ও রেস্তোরাঁতেও ছিল পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য আয়োজন।