গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রে নৌকা ডুবিতে ৩ জনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২০:০৭

গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদে মঙ্গলবার এক নৌকা ডুবির ঘটনায় ৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তারমধ্যে বিকাল চারটা পর্যন্ত এক শিশু ও দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। 

তারা হলেন- গিদারি ইউনিয়নের ধুতিচোরা গ্রামের ইনছার আলীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৫), একই ইউনিয়নের দক্ষিণ গিদারি গ্রামের মৃত. আইজল মুন্সির স্ত্রী ফিরোজা বেওয়া (৪০) ও একই গ্রামের সাজু মিয়ার মেয়ে শান্তনা খাতুন (১০)। 

এছাড়া মঙ্গলবার বিকেল চারটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরও ৬জন নিখোঁজ রয়েছেন। অনেক খোঁজাখুজি করেও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে নিখোঁজ দুইজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- দক্ষিণ গিদারি গ্রামের মিনহাজ মিয়ার মেয়ে মেরেনা আকতার (১৩) ও ধুতিচোরা গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে আঙ্গুর মিয়া (৪০)। 

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস সুত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের নয়া গ্রাম থেকে প্রায় ৫০ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক ধুতিচোরা চরে ভুট্টার জমিতে কাজ করার জন্য শ্যালো ইঞ্জিল চালিত নৌকাযোগে ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপার হচ্ছিলেন। নদের অপর পাড়ে যাওয়ার পথে নদের মাঝখানে পৌঁছলে হঠাৎ করে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় ৯ জন নৌকা যাত্রী পানিতে ডুবে যায়। এর মধ্যে বিকাল চারটা পর্যন্ত ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ৬ জনের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। বাকি যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। 

আরও পড়ুন: দাবানলে পুড়ে ছাই ঘুমন্ত জনপদ, নিহত ৫০

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দিন জানান, ৩০ জনের মত যাত্রী বহনে সক্ষম একটি নৌকা ৫০ যাত্রী নেওয়ার কারণে নৌকায় পানি উঠে ডুবে যায়। এ ব্যাপারে নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য রংপুর থেকে ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। 

এদিকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার রায় এবং সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, নিহতদের পরিবারপ্রতি ১০ হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/কেকে