খাদ্যাভাবে লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে মধুপুরের বন্যপ্রাণী

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৬
খাদ্যাভাব ও আবাসস্থল বিনষ্ট হওয়ায় মধুপুর বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী লোকালয়ে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বনাঞ্চলের আশপাশের গ্রামে ঘটছে এ নির্দয় ঘটনা। ৬২ হাজার একরের মধুপুর বনাঞ্চল এখন ১২ হাজার একরে এসে ঠেকেছে। এ বনে হরিণ, বাঘডাসা, বানর, হনুমান, বনমুরগি, খরগোশ ও কচ্ছপসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যায়। কিন্তু বনের চিরায়ত বৃক্ষ যেমন আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, সিধা, কাইকা, সিন্ধুরি, জয়না, পলাশ কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর খাবার, প্রজনন ও আশ্রয়স্থল সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। পশুপাখির খাদ্য সঙ্কট নিরসনের জন্য ২০০২ সালে বন বিভাগ মধুপুর ন্যাশনাল পার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দোখলা ও লহরিয়া বিটে সৃষ্ট পাঁচশ একর বাগানের অধিকাংশ গাছপালা পাচার হয়ে গেছে। মৌসুমে এ বনে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পুড়ে বিনষ্ট হয় ভেষজ বৃক্ষ, গুল্মলতাদি, বন্য ফুল-ফল, গোটা ও কঁচি পাতা। তখন আবাসস্থল হারানো বন্যপ্রাণী খাদ্যের সন্ধানে চলে আসে লোকালয়ে। আশ্রয়হীন প্রাণী লোকালয়ে এলে গ্রামবাসি পিটিয়ে হত্যা করে। এদের উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য গৃহস্থরা বিষটোপ ব্যবহার করে। বনাঞ্চলের আশেপাশে মহাজনরা কেনা কলা ট্রাকে ভরার সময় বানর-হনুমানরা পাকা কলার লোভে তাতে চড়ে বসে। এসব কলাবাহী ট্রাকে তারাও চালান হয়ে যায়। গত মার্চে কলার ট্রাকে চালান হয়ে আসা একদল হনুমান গোপালপুর ও ভুঞাপুর উপজেলা চষে বেড়ায়।