তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার অনুমোদন (ডিক্লারেশন) বাতিল করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। পত্রিকাটি অন্য ছাপাখানা থেকে প্রকাশ করতে কোনো বাধা নেই। তবে এ জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটি ফৌজদারি অপরাধের মামলা। তিনি বিবেক বর্জিত, নীতিহীনভাবে সাইবার অপরাধ করেছেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৬ ও ৫৭ ধারা অনুযায়ী এই মামলা করা হয়েছে। একই আইনের ৮০ ধারা অনুযায়ী ছাপাখানার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ সকল কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা করেছে। এর সঙ্গে পত্রিকার ডিক্লারেশন বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেশ’ কর্তৃপক্ষ আইন অনুসরণ না করে শঠতা, প্রতারণা ও চতুরতার আশ্রয় নিয়ে দৈনিক সংগ্রামের প্রেস ‘আল-ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস’ হতে পত্রিকা ছাপায় যা আইনের পরিপন্থি। কেননা, ‘দ্য প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট অনুযায়ী, ছাপাখানা পরিবর্তন করতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মাহমুদা বেগম নামের একজনকে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেখিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য আল-ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে পত্রিকাটি ছাপানো হবে মর্মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি চিঠি দেয়া হয়। পরে জানা যায়, মাহমুদা বেগম ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা। তিনি এই পত্রিকার সঙ্গে পেশাগতভাবে সম্পৃক্ত এমন কোনো তথ্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নেই। এতে বোঝা যায়, মাহমুদুর রহমান উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার মাকে ব্যবহার করেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন মেনে ডিক্লারেশনে ঘোষিত ছাপাখানার বাইরে অন্য কোথাও ‘আমার দেশ’ ছাপা যাবে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কথিত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল ‘আমার দেশ’ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর পত্রিকাটির ছাপাখানা সিলগালা করে দেয় পুলিশ। পরে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ দৈনিক সংগ্রামের আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে পত্রিকা ছাপানো শুরু করলে গত শনিবার রাতে সেখানেও অভিযান চালানো হয়। ‘বেআইনিভাবে’ আমার দেশ ছাপানোর অভিযোগে সংগ্রামের সম্পাদক ও প্রকাশক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রকাশনা) নাসরীন সুলতানা।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় অসামপ্রদায়িকতার সংগ্রাম’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কিছু গণতন্ত্র, কিছু সামরিকতন্ত্র, কিছু ধর্মতন্ত্রের মিল করে রাষ্ট্র চলতে পারে না। পথ চলার জন্য রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট মত বেছে নিতে হয়। বাংলাদেশও অসামপ্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্দেশ্যেই যাত্রা শুরু করে। অথচ দেশে এখন ‘গোজামিলতন্ত্রের’ চর্চা করা হচ্ছে। ভারতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ এবং বাংলাদেশের গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
‘আমার দেশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সত্য নয়’
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দৈনিক আমার দেশ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিকল্প ব্যবস্থায় আলফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে আমার দেশ প্রকাশ করার পর প্রিন্টিং প্রেসেস এন্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট (ডিক্লারেশন এন্ড রেজিস্ট্রেশন) ১৯৭৩ অনুযায়ি পত্রিকা প্রকাশের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। সেখানে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে অভিযান চালিয়ে পত্রিকার প্রকাশিত সব কপি বাজেয়াপ্ত এবং ১৯ জন বাইন্ডারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এইসব বেআইনী ও উদ্দেশ্যমূলক বাধা এবং হয়রানির পরও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছাপাতে সরকারের বাধা না দেয়া সংক্রান্ত তথ্যমন্ত্রীর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
