কয়লার মতোই কালো অমানিশায় ঘেরা তাদের জীবন

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৯
কয়লার মতই কালো অমানিশা নেমে এসেছে তাদের জীবনে। আর্থিক অনটনে থমকে গেছে ভাগ্যের চাকা। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত তৃতীয় পক্ষের অধীন অস্থায়ী শ্রমিকদের জীবনে এখন এমনই দুর্দশা চলছে। দেশের অন্যতম প্রধান কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া থেকে উত্তোলিত কয়লায় বর্তমানে দেশের মোট কয়লা চাহিদার শতকরা ১০ ভাগই পূরণ হচ্ছে। এই খনি থেকে উত্তোলিত কয়লার মাধ্যমেই উত্পাদিত হচ্ছে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ২৫০ মেগওয়াট বিদ্যুত্। দেশের জ্বালানি খাতের পাশাপাশি আর্থিক খাতকে উজ্জ্বল করলেও উজ্জ্বল হয়নি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সূচনা লগ্ন থেকে কর্মরত তৃতীয় পক্ষের অধীন অস্থায়ী শ্রমিকদের জীবনমান। এক একজন শ্রমিক ১২ থেকে ১৫ বছর চাকরি করলেও খনিতে কারো চাকরিই স্থায়ী হয়নি। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বেশ কয়েকবারই আশায় বুক বেঁধেছে তারা। কিন্তু বারবারই আশা ভঙ্গের বেদনা কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে অনেক শ্রমিকের চাকরির বয়সও শেষ হয়ে আসছে। আর সেই নির্মম মুহূর্তটি আসামাত্র শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হবে তাদের। কিভাবে কাটবে তাদের বাকী জীবন- এ চিন্তায় অস্থির অস্থায়ী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। উপরন্তু চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা থেকেই তারা বঞ্চিত। অল্প বেতনে এই দুর্মূল্যের বাজারে দুমুঠো খেতে, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তারা আর পেরে উঠছেন না। এ জন্য তারা এখন চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানায়, কয়লা খনিতে শুধু সারফেস অপারেশনে ৪৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। অথচ মাত্র ১৪১ শ্রমিক ও ৬ জন কর্মকর্তা তৃতীয় পক্ষের অধীনে অস্থায়ীভাবে চাকরি করে আসছে। তবুও কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে নানা টালবাহানা করে আসছে। বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়াজেদ আলী ও সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, খনির সূচনালগ্নে চীনা ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি শ্রমিকদের কয়লা উত্তোলনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে কয়লা উত্তোলন করার কথা ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কয়লা উত্তোলনের পুরোপুরি অভিজ্ঞতা অর্জনের পরও শ্রমিকদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের কোন পদক্ষেপই কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছেন না। অথচ অন্যদিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানি লিমিটেড ও চীনা ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে কয়লা উত্তোলনের চুক্তি প্রতি বছরই নবায়ন হচ্ছে। এতে করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বড়পুকুরিয়া শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার বলেন, ২০০৯ সালে কোম্পানি শ্রমিক-কর্মচারী ও অফিসার নিয়োগ দেয়ার জন্য জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহবান করে। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অফিসার নিয়োগ হলেও অদৃশ্য কারণে শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, দেশের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে যারা দীর্ঘদিন থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করে আসছে তারা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক। আর কোম্পানি চালাতেও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীর। এজন্য তিনি তৃতীয় পক্ষের অধীন কর্মরত দক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্যপদে নিয়োগ দিয়ে তাদের জীবন উন্নয়নের পাশাপাশি কোম্পানির উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ,কে,এম সেরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানি লিমিটেড সরকারি কোম্পানী। তাই নিয়োগের বিষয়টি সরকারি অনুমোদন ছাড়া করা সম্ভব নয়। কোম্পানির স্বার্থে সরকার ও পরিচালনা বোর্ড নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।