আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১০
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ সমন্বয়ের একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা যেতে পারে। ওই কমিটি এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সমস্যার ধরন অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে অশুল্ক বাধাসহ বাণিজ্য সমস্যার সমাধান করবে। আঞ্চলিক বাণিজ্যের সমস্যা বিষয়ক এক সংলাপে এ সুপারিশ এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, আঞ্চলিক বাণিজ্যের উন্নয়নে সার্ক, সাফটা ও বিমসটেক কাজ করলেও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চার দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার) গঠনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে উন্নয়ন সমন্বয়, এশিয়া ফাউন্ডেশন ও সিইউটিএস ইন্টারন্যাশনাল-ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে ‘দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক বাণিজ্য বাধা দূরীকরণে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি চালু’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয়ের এমেরিটাস ফেলো খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে সংলাপে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. একে এনামুল হক, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, সিইউটিএস ইন্টারন্যাশনালের উপ-নির্বাহী পরিচালক বিপুল চ্যাটার্জি, এশিয়া ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি পরিচালক সৈয়দ এ আল মুতি বক্তৃতা করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিজ) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মাহফুজ কবির। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের অশুল্ক বাধা দূর করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সরকারি ও বেসরকারি জনশক্তি নিয়ে এ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব তোলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের অশুল্ক বাধা দূর করতে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কমিটি ইতিমধ্যে কাজ করছে। তবে সেটা টাস্কফোর্স নামে নয়। আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তীতে কাজ করা যেতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে আন্তঃযোগাযোগ উন্নয়নে ইতিমধ্যে কলকাতা ও ভুটানে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসায়ীরা আলোচনা করেছে এবং শিগগিরই ঢাকায় এ আয়োজন করা হবে। মন্ত্রণালয়ে নানা সমস্যার কারণে বাণিজ্য সমস্যা সমাধানে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া যায় না বলে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন। তবে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। বন্দরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং-এর জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, বন্ডের ওয়্যার হাউস সমস্যা, পণ্যের মান নির্ণয়ের পদ্ধতিগত সমস্যা, সমন্বিত কাস্টমস না থাকাসহ বেশকিছু সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে ভিসা পাওয়া আগের থেকে সহজ হয়েছে, ভারত বেশ কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের ল্যাব এবং টেস্টিং সার্টিফিকেটে গ্রহণ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতে পোশাক রফতানিতে ট্যাক্সের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতে আগে পোশাক রফতানি করতে প্রতিরাজ্যে পাঁচ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হতো। এটি শিগগিরই তুলে নিতে দুইদেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসারে অশুল্ক বাধাসহ বিভিন্ন বাধা দূর করার বিষয়ে সংলাপে বক্তারা বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধা, ট্রাক থেকে পণ্য নামানো পর্যন্ত ভারতে প্রবেশাধিকার, একই জায়গায় উভয় দেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা অবস্থান করে পণ্যে প্রবেশের স্বীকৃতি দেয়া, বন্দরের কার্যক্রমের সময় বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করা, পণ্যের মান নির্ণয়ের বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় করার সুপারিশ করেন। এসব সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ বাড়বে। একইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়বে বলে বক্তারা মত দেন।