শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবের কাছে অভিযোগ, স্মারকলিপি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৬
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির দুই নেতাকে অন্যদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে—শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলামের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের ১০টি ফোরামের নেতারা। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। তারা বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেই নিতে হবে। বৈঠকে ১৪তম সাধারণ শিক্ষা ফোরামের সদস্য সচিব ইমরুল হাসান, ১৬তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ফোরামের সদস্য মাসুদা বেগম, ১৬তম ফোরামের সভাপতি মন্মত রঞ্জন বাড়ৈ, সদস্য সচিব আবুল বাশার, ২৪তম ফোরামের সভাপতি বিজয় কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ১৮তম, ২২তম, ২৫তম, ২৭তম, ২৮তম এব ২৯তম সাধারণ শিক্ষা ফোরামের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফোরামের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ও সংরক্ষিত প্রায় ৮০টি শূন্য পদ ৪/৫টি বিষয়ের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে, অথচ মোট বিষয়ের সংখ্যা প্রায় ২৭টি। একটি বিষয়েই (রসায়ন) দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ২৪টি পদ যা কোনভাবেই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগ কম থাকা বিষয়গুলোকে বিবেচনা করা হয়নি যা অতীতে সকল সময় করা হয়েছে। তারা বলেন, সহকারী অধ্যাপক হতে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ে একজন বিশেষ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার জন্যই এ কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতা। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, পদ শূন্য না থাকার পরও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের একজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত কোন আইন-কানুন, বিধি-বিধান বা রীতিনীতি অনুসরণ করা হয়নি। এই কর্মকর্তাও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতা। শিক্ষকরা বলেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং এ ধরনের পদোন্নতি পরিহারের আহ্বান জানাই। না হলে এ ধরনের পদোন্নতি শিক্ষা ক্যাডারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। শিক্ষকরা বলেন, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে পদোন্নতি নিয়ে যখন একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যখন ১৪শ বিসিএস কর্মকর্তাগণের অধীনে ৭ম বিসিএস কর্মকর্তাগণকে চাকরি করতে হবে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ১৬শ বিসিএস এমনকি ১৪শ বিসিএস কর্মকর্তাগণের এসিআর ২২শ বিসিএস কর্মকর্তাগণ লিখবেন এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে সুপার নিউমারারী পদ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির দাবি তীব্র হয়েছে। বৈঠক শেষে বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি শিক্ষামন্ত্রীকে প্রদান করেন। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দাবি পূরণের চেষ্টা করবো। পরে ফোরামের নেতারা শিক্ষা সচিবের অফিস কক্ষে গিয়ে একই দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।