জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত নয় :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
যুক্তরাষ্ট্র সফররত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। নিষিদ্ধ করলেই তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবে এবং অনেক জ্বালাতন করবে। তবে শিবিরকে এখনই নিষিদ্ধ করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। কারণ শিবির কোনো রাজনৈতিক দল নয়, পরিষ্কারভাবে এটি একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের চালচলনে ধর্মের কিছু নেই। অথচ ধর্মের নামে তারা লুটতরাজ ও সহিংসতা করছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় প্রবাসের বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি জন উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন কামাল আহমেদ, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ শওকত আলী, কাজী সাব্বির আহমদ, মিনহাজ আহমেদ শাম্মু, বেদারুল ইসলাম বাবলা, আতাউর রহমান সেলিম, আব্দুর রহিম হাওলাদার, আবু তালেব চৌধুরী, রাবেয়া মালিক, মিসবাহ আহমেদ প্রমুখ। সভার সঞ্চালক ছিলেন জোসেফ চৌধুরী। কোনো কোনো বক্তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে হরতাল বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধে জানালে অর্থমন্ত্রী বলেন, হরতাল রাজনৈতিক অধিকার। তাই রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে আইন করে হরতাল বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে হিংস্রতা দিয়ে হরতালকে ধ্বংস করা হয়েছে। হরতালের নামে অনবরত সহিংসতা চলছে। এটা প্রতিহত করতে হবে। দেশে এখন যে হরতাল হচ্ছে তা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশে সাময়িক নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাম রক্ষার কথা বলে হেফাজতে ইসলাম যেসব দাবি তুলেছে তা কখনোই মানা সম্ভব নয়। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের নেতৃত্ব আগে থেকে থাকে না। নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। নতুন প্রজন্ম যে দাবিটি করেছে তাদের ওই দাবিতেই থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া স্থায়ীভাবে সমাবেশ করার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা মঙ্গলজনক নয়। এটা জনজীবনকে বিঘ্নিত করে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে এক প্রবাসীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারি একটি বড় ধরনের জালিয়াতি। সরকারের সুপারভিশনের দুর্বলতার কারণে এ ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। তবে সরকার এখন সাবধান হয়েছে। আগামী নির্বাচনে অংশ নিলেও মন্ত্রী না হবার যে ঘোষণা অতীতে দিয়েছিলেন তা থেকে সরে এসে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। প্রবাসীরা ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ, নতুন উপ-শহর তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেফটি স্ট্যান্ডার্ডের কারণে এবং বোয়িং না থাকায় ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা রয়েছে। তবে সিলেটের অন্যান্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর জন্য সিলেট বিভাগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নেই। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন। বান কি মুনের সঙ্গে সাক্ষাত্ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিউইয়র্কে মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দপ্তরে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। এসময় তিনি বান কি মুনকে বলেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সাক্ষাত্কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। দু’জনের মধ্যে আলোচনাকালে জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈনিকদের সার্বিক কর্মতত্পরতার প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এসময় অর্থমন্ত্রী আগামীতে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অধিকতর সেনা ও পুলিশ সদস্য নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার আহবান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অর্থনীতির মতো অন্যসব ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।