চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে একদা খরসে াতা পাগলা নদী। খরসে াতের কারণেই হয়তো কেউ নদীটির নাম দিয়েছিল ‘পাগলা’। কিন্তু বর্তমানে এই পাগলা নদীটি শান্ত রূপ ধারণ করেছে। শুধু শান্ত বললে ভুল হবে, ক্রমশ পানিশূন্য হয়ে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে একদা সে াতস্বিনী পাগলা নদী। আর প্রকৃতির এই সর্বনাশের জন্য দায়ী কিছুসংখ্যক লোভী মানুষ।
পাগলা নদী দিয়ে এক সময় চলাচল করতো বড় বড় নৌকা। নদীতে ছিল প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ। এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল রামচন্দ্রপুর হাটে বৃটিশদের নীলকুঠি। গড়ে উঠেছিল রামচন্দ্রপুর বাজার, কালিনগর বাজার, রাণীহাটি বাজার, শিবগঞ্জ বাজার, কানসাট বাজার। এসব বাজারে নৌকাযোগে ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহন করতেন।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এই পাগলা নদী ছিল শিবগঞ্জ উপজেলার প্রাণ। পাগলা নদীর তীরে অবস্থিত কানসাট ও তত্তিপুর হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত। প্রতিবছর মাঘী পুর্ণিমা উপলক্ষে তত্তিপুর ও কানসাটে গঙ্গাস্নান করতে আসতেন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ। আজও মানুষ এলেও নদীর পানি কমে যাওয়ায় আগতদের সংখ্যা অনেক হ্রাস পেয়েছে। কানসাটে রয়েছে জাহ্নমুনির আশ্রম। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার কুঁজে রাজার কানসাট রাজবাড়ি এই পাগলা নদীর তীরেই অবস্থিত।
এই পাগলা নদী বর্তমানে প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে এই নদীর মোহনা থেকে উজানে শাহবাজপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এই নদীর কিছু অংশে সামান্য পানি থাকলেও তাতে প্রবাহ নেই। নদীটি বদ্ধ হয়ে গেছে। রাজস্ব বিভাগ (ভূমি) লাগামহীনভাবে পাড় লিজ দেয়ার কারণে গোটা পাগলা নদীর দুই পাড়ে আবাদ হচ্ছে ধানসহ বিভিন্ন ফসল। অবৈধ দখলদাররা পাড় কেটে নদী ভরাট করে ফেলেছে। করছে ফসল আবাদ। কোথাও কোথাও নদীর পাড়ে ইটভাটা করে গ্রাস করছে পাগলা নদী। এসব কারণে নদীর পানি প্রবাহ প্রায় রুদ্ধ হয়ে গেছে।
নদীতে পানি কমে যাওয়ায় মহাবিপদে পড়েছেন নদী তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ। ঘোড়াপাখিয়া, রাণীহাটি, ছত্রাজিতপুর, নয়ালাভাঙ্গা, কানসাট, মনাকষা, শাহবাজপুর, দুর্লভপুর, উজিপুর ইউনিয়নবাসী ও শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণ পড়েছেন পানি সংকটে।
অনতিবিলম্বে লিজ দেয়া বন্ধ ও অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নদীর জমি উদ্ধার করে নদীটি খনন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকার অধিকাংশ মানুষ। তাহলেই নদীতে পানি প্রবাহ আগের মতো নির্বিঘ্ন হবে, পাগলা নদীও আগের মতো খরসে াতা হয়ে নিজের নামের সার্থকতা প্রমাণ করতে পারবে।
