রূপসী বাংলা হোটেলকে ইন্টার কন্টিনেন্টাল ঢাকা নামে ব্রান্ডিং শুরু করার আগে হোটেলটির ভবনে ব্যাপক সংস্কার করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এ সংস্কার কাজ শুরু হবে। আর ২০১৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হবে সংস্কার কাজ। সংস্কারকালীন সময়ে হোটেলটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। গতকাল সংস্কারের ধারণাগত পরিকল্পনা তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। হোটেলটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান। এতে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সংস্কার বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ক্রিস্টোফার ক্রিব। হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর (অব.) লুত্ফর রহমানের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিএসএলের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম চৌধুরী, কন্টিনেন্টাল হোটেলসের মহাব্যবস্থাপক জেমস ম্যাকডোনাল্ড ও প্রকল্পের প্রধান স্থপতি আহসানুল হক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ও পরে এ হোটেলের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও গুরুত্ব স্বীকার করে হোটেল ভবনের আকর্ষণীয় ঐতিহ্য সমুন্নত রাখা হবে। মূলভবন না ভেঙ্গে সংস্কারের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। আর সংস্কারের সময় হোটেলের পুরো কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাউকেই চাকরিচ্যুত করা হবে না। তাদের হোটেলের সংস্কার প্রকল্পে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ও ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের অন্যান্য হোটেলে কাজে লাগানো হবে। সংস্কার পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুন্দর বন্দোবস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের মন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ধারণাগত পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান অতিথি কক্ষের আয়তন ২৬ থেকে ৪০ বর্গমিটারে বাড়ানো, দিনের আলো সম্বলিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনযোগ্য স্থানে ডাইনিং স্থানান্তর, স্পেসিয়ালিটি ও থিম রেস্টুরেন্ট নির্মাণ, আধুনিক অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও অডিও-ভিজুয়াল লাইটিং সুবিধাসহ পাবলিক এরিয়া, ব্যাংকুয়েট হল ও মিটিং রুম সংস্কার, হেলথ ক্লাবসহ সুইমিংপুল অন্যত্র স্থানান্তর এবং আধুনিকায়ন, রন্ধনশালা ও লন্ড্রির সরঞ্জামাদি প্রতিস্থাপনসহ সংস্কার ও মেকানিক্যাল-ইলেকট্রিক্যাল-প্লাম্বিং সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, চুক্তি অনুযায়ী হোটেলটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়া ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ ৩০ বছর হোটেলটি পরিচালনার পর চাইলে দুই দফায় পাঁচ বছর করে আরো ১০ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পারবে। মেয়াদ বাড়াতে চাইলে সেসময় বিএসএলের কাছে আবেদন করলেই চলবে।
