পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল ভার্সন ‘ই-বুক’

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:০১
যে পড়ার টেবিল বা শেলফ কানায় কানায় পূর্ণ থাকত বিভিন্ন বই-পুস্তক তথা পেন-পেন্সিল দিয়ে, সেখানে টেবিলের এক কোণে এখন কেবল একটি ছোট্ট ল্যাপটপ, ই-প্যাড এবং একটি সিডি/ডিভিডি অথবা একটি ছোট্ট পেনড্রাইভ ব্যতীত কিছুই নেই। একই চিত্র স্কুল-কলেজেও, সেখানে বেঞ্চে-শ্রেণিকক্ষে বই খাতা ও ব্যাগের পরিবর্তে একটি ছোট্ট ল্যাপটপ, ই-প্যাড এবং চক-ডাস্টার ও ব্ল্যাক বোর্ডের পরিবর্তে হোয়াইট বোর্ড বা প্রজেক্টর। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এখন আর একটি ছোট্ট ল্যাপটপ, ই-প্যাড ব্যতীত বইতে হচ্ছে না বইয়ের ভারী ব্যাগ। শিক্ষায় এই নতুন ও চমকপ্রদ ধারা যুক্ত করেছে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই সুবিধার ফলে শিক্ষাটা এখন ছেলেমেয়েদের কাছে কতটা সহজ, আনন্দদায়ক এবং নান্দনিক তা নিম্নের ঘটনা থেকে সহজে বোঝা যায়। সিফাত এবার জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। কিন্তু একটুর জন্য ও মিস করতে বসেছিল বিজ্ঞানের এ প্লাস। পরীক্ষার আগের দিন সে বিজ্ঞানের মূল বইটা খুঁজে পাচ্ছিল না। সে বলছিল, ‘আমি সব বিষয়ের মূল বইয়ের ওপর নির্ভর করেই পরীক্ষাগুলো দিয়েছিলাম। ফলে বিজ্ঞান বইটা না পেয়ে আমি ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আমার ছোট বোন একটু চটপটে। ও হয়তো দুষ্টুমি করতে করতে কোথায় বইটাকে রেখেছে, আর পাচ্ছিলাম না। তখন বিকাল চারটা। এ সময় কোনো বন্ধু আমাকে মূল বই দেবে না, দোকানেও কিনতে পাব না। এখন কী করি! এটা ভাবতে ভাবতে একটু নার্ভাসও হয়ে গেলাম। যা কিছু পড়েছিলাম সবই যেন আস্তে আস্তে স্মৃতি থেকে মুছে যেতে থাকল। হঠাত্ আমার মনে পড়ে গেল একটা সিডির কথা, আমার মামা এনে দিয়েছিলেন। ওটা মূলত একটা ‘ই বুক’ ওটার মধ্যেই পাওয়া যাবে পুরো বইটা। ভয়ে ভয়ে সিডিটা কম্পিউটারের সিডি ড্রাইভে ভরে ওপেন দিলাম। ব্যস, আমার টেনশন কমতে শুরু করল। হ্যাঁ ঠিকই পেয়ে গেলাম বইটা। একের পর এক পৃষ্ঠা থেকে আমি আমার পড়াগুলো রিভিশন দিয়ে ফেললাম। এ জন্য যদি ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাউকে পেতাম, তাহলে বড় করে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিতাম। দারুণ একটা কাজ করেছেন তারা।’ শুধু বিজ্ঞানই নয়, প্রায় সকল বোর্ড পাঠ্যই আছে স্বয়ংক্রিয় তথা চমত্কারভাবে সাজানো গোছানো। সিফাতের মতো অনেকেই হয়তো সমস্যায় পড়তে পারে বই নিয়ে। তাদের জন্য শিক্ষা উপকরণের ডিজিটাল ভার্সন প্রকাশ করেছে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এতে প্রথম শ্রেণি থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত সকল বোর্ডবই পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের মধ্যে রয়েছে ৪টি সার্টিফিকেট পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও করণীয়, ৩ রকমের ডিকশনারি (বাংলা থেকে ইংরেজি, ইংরেজি থেকে বাংলা, ইংরেজি থেকে ইংরেজি), ইন্টারনেট ইংলিশ টকার। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অধ্যয়নের জন্য মূল পাঠ্যের বাইরে রয়েছে ব্যবহারিক শিক্ষাসহ সকল বিষয়ের সহায়ক বই, নোট, লেকচার শিট, লেকচার প্ল¬্যান ইত্যাদি। এই সিডি বিনামূল্যে বিতরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য যোগযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :প্ল¬ট-২, গুলশান সার্কেল-২, ঢাকা অথবা সরাসরি কথা বলতে পারেন এই নম্বরে :৯৮৮১৩৫৫, ০১৭২০৫৫৭১৬০/১৭০/১৮০ এই নাম্বারে। শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল সফটওয়্যারে প্রবেশের সাথে সাথেই নিম্ন থেকে মাধ্যমিক ও পুরো উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা জগতটি পেয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এককথায় দেশের পুরো শিক্ষাকাঠামোকে একটি ছোট্ট ল্যাপটপে সাজিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়ার মহা প্রস্তুতি এটি। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০১৩ সালের মধ্যে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তাদের কয়েক লাখ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল ভার্সন—ডিভিডি।