ভিনদেশি

ফ্যাশন আইকন রোজ

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:০৩
ফ্যাশন জগতের এক তরুণ প্রতিভা, খুব অল্প বয়সেই শুরু করেন তার ক্যারিয়ার। পড়াশোনার পাশাপাশি বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলেছেন এমা রোজ রবার্ট। একাধারে তিনি একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, মডেল এবং গায়িকা। এককথায় বলা যায় ফ্যাশন জগতের এক অন্যতম নক্ষত্র। এই তরুণীর ফ্যাশন জগত নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ফ্যাশন জগতে এক অতি পরিচিত নাম এমা রোজ রবার্ট। সফল প্রফেশনাল ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে তার নাম গণ্য করা হয়। তিনি এলিস ও অলিভিয়া নামের ফ্যাশন লাইন তৈরি করে খ্যাতির শীর্ষে উঠে আসেন এবং অল্প বয়সে মিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বাদ পান। বর্তমানে তার বাত্সরিক আয় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। তার সাফল্যের নকশা এমা তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলা অবস্থায়। তিনি সে সময় পেনিনসূয়েলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তারই সহপাঠী লরেনের সাথে ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে তাদের মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এলিস ও অলিভিয়া নামের ফ্যাশন প্রজেক্টটি। তাদের মিলিত প্রচেষ্টার ফসল মার্কেটে আসার সাথে সাথেই তুমুল ঝড় তুলেছিল। শুরুতেই পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৮০০ দোকানে বিক্রি হয়ে যায় তাদের প্রোডাক্ট। তাদের দুজনের সৃষ্ট কোম্পানি হলেও, তাদের কোম্পানির খ্যাতি পাওয়ার পিছনে প্রকৃতভাবে হাত রয়েছে স্টেসির। তার ক্রিয়েটিভ চিন্তাধারার সাথে মিলিয়ে এ ফ্যাশন হাউস করা হয়েছে। যথেষ্ট পরিমাণে সাড়াও পাওয়া গেছে। মডেল কন্যা এমার ফ্যাশন ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নয়, অনেক আগে থেকে এ ধারণা তার মনে বাসা বেঁধেছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের একটা খবরে বলা হয়, এমা কলেজে থাকা অবস্থায় একটা কাজের ইন্টারভিউ দিতে গিয়েই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শুধু কলেজেই নয়, সব সময়ই তার পোশাকের ধরন ছিল এমন। এ জন্য তাকে অনেকে ফ্যাশনেবল বলে জানত। অন্যদিকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে ছিলেন একজন। আক্ষরিক অর্থেই তিনি ছিলেন অন্য রকম। ফ্যাশন সম্পর্কে ধারণা এমার থেকে কোনো অংশে কম ছিল না। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে শুরু হয় টানাপোড়ন। একসময় তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। বন্ধু বব নিজের মতো করে একটা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন ড্রিম হাউস। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। এমা জিনসের প্যান্ট পড়তে খুব পছন্দ করেন, সেই সাথে স্কার্ট ও টপস। বিশেষ করে যেগুলো স্কিনি এবং স্লিম। সাথে বড় বকলেসের বেল্ট এবং বোতাম। পেনিনসূয়েলা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার ডেনিম ব্র্যান্ডের বেশ ভালো একটা কালেকশন গড়ে উঠেছিল। বছরের পর বছর শপিং করে, জামা বানিয়ে, নিজে সেলাই করে, জোড়া দিয়ে তিনি নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের জিনস তৈরি করে নিতেন নিজেই। প্রতিবারই ভিন্ন ধরনের কিছু তৈরি করতেন। বলা যায় এভাবেই জন্ম হয় তার ফ্যাশন জগতের। নিউ ইয়র্কের বুকে এই ফ্যাশন তারকার পথচলা শুরু হয় ২০০২ সালের শেষ ভাগে। এবং শুরুতেই সফলতা পেয়ে আলোড়ন তোলেন ফ্যাশন জগতে। সবাই এমার মতো পারফেক্ট ফ্যাশনেবল ড্রেস চাওয়া শুরু করে। মার্কেটে এর নামও হয়ে যায়, ‘এমা ফ্যাশন’। তার বন্ধুরা তাকে এই নামে ডাকে এখনও। এককথায় রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন সবার কাছে অতি প্রিয়। ২০০৩ সাল, এমা তার ফ্যাশন জগতে নিয়ে আসে আরও একটি নতুন ডিজাইন, ‘কাশ্মিরি সোয়েটার কালেকশন’। ঠিক তার পারফেক্ট ফ্যাশনেবল ড্রেসের মতোই। জনপ্রিয়তার দিক দিয়েও এগিয়ে থাকে তার এই সোয়েটারও। সে বছরই তিনি মার্কেটে নিয়ে আসেন বিশেষ মানের সুইম ওয়্যার, অর্থাত্ সাঁতারের পোশাক নিয়ে। নামকরণ করেন, ‘অ্যান্টোনিও মো’। এমার আরও কিছু খবর ফ্যাশন জগতে ঢুকার প্রায় দু’বছরের মধ্যে এলিস ও ওলিভিয়ার খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই সাথে তার সেনসেশনাল কালেকশনের তালিকায় যোগ হতে থাকে আরও অর্জন। অর্ডার আসতে থাকে প্রতিনিয়ত। তিনি এরপর প্রথমবারের মতো স্থাপন করেন বুটিক শপ। ২০০৬ সালে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে এলিস ও ওলিভিয়ার খ্যাতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও একটি বুটিক শপ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। শুধুমাত্র নিউইয়র্ক শহরেই তার বুটিকের সংখ্যা বর্তমানে ৫টি। এরপর তিনি পা রাখেন জুতোর ফ্যাশন জগতে। নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ২০০৮ সালে তিনি তার অন্যান্য কালেকশনের সাথে মিলিয়ে মার্কেটে আনেন বাহারি জুতো। নাম দেন, ‘পেলেস কালেকশন’। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। তিনি তার নিজের কোম্পানিতে সিইও পদে যোগ দেন। তার ফ্যাশন হাউস নিয়ে করা হয় একটি ওয়েব সাইট। পরবর্তীতে সাইটের ব্যাপ্তি আরও বেড়ে যায়। সুদূর প্যারিস শহরেও তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। শুধু কাপড় নিয়ে ফ্যাশনই নয়, তার প্রতিভার প্রকাশ দেখা যায় ঘরের অলঙ্করণের কাজেও। এককথায় ইন্টেরিয়ার ডিজাইনিংয়ে দক্ষতার সাথে কিছু কাজ করেন তিনি। সেগুলোও খ্যাতি পেয়েছে বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাগুলোতে তাকে নিয়ে আলোড়ন তোলে। এখানেই শেষ নয়। এমার খ্যাতি ও ডিজাইন প্রতিভার কারণে তিনি আমেরিকার রেড কার্পেটের জন্য সিনেমার তারকাদের ড্রেস ডিজাইনের কাজও করেন।