স্কুলজীবন থেকে লেখালিখি শুরু তার। প্রথমে স্কুল ম্যাগাজিনে, এরপরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। গল্প, ছড়া, কবিতা, গান লিখছেন শুরু থেকেই। তার লেখা গান নিয়ে ‘অন্তর্দ্বন্দ্ব’ নামে একটি অডিও অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে। গেল বইমেলায় তার বই সাইলেন্ট কল সাড়া ফেলেছে তরুণদের মঝে। উপস্থাপনায় স্বর্ণপদক পাওয়া ছাড়াও আলোকচিত্র, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে পেয়েছেন বেশ কিছু স্বীকৃতি। তাকে নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
‘সেই ২০০৬-এ কাজ শুরু করেছিলাম ইউনিসেফ পরিচালিত বার্তা সংস্থা (তত্কালীন) ‘শিশুপ্রকাশ’-এ। মাঝখান দিয়ে পেরিয়ে গেছে সাতটা বছর। কখনও শিশুসাংবাদিক, কখনও সম্পাদক, কখনও স্বেচ্ছাসেবক—বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে কাজ করেছি শিশুপ্রকাশে। নিপাতনে সিদ্ধ বলে একটা ব্যাপার আছে। যা কোনো নিয়মের মধ্যেই পড়ে না। শিশুপ্রকাশের ব্যাপারটা আমার কাছে নিপাতনে সিদ্ধর মতোই। কারণ কোথাও যাই আর না যাই, শিশুপ্রকাশে যেতেই হতো। মন থেকে টানলে কাউকে আটকে রাখার সাধ্য কার! আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি যে সেখানেই! এরপরে শিশু সংগঠন ছোটরাই, শিশু পত্রিকা নতুনপাতা, ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসরসহ আরও বহু জায়গায় হূদয় গোঁজার সৌভাগ্য হয়েছে।’ বলছিলেন তরুণ লেখক আল নাহিয়ান। একটা কলম বুলেটের মতো ছিদ্র করে দিতে পারে মিথ্যের ফুসফুস। লেখালিখির ক্ষেত্রে এটাই আল নাহিয়ানের বিশ্বাস। কয়েকটি ডকুমেন্টারি, শর্টফিল্ম এবং ডকু-ড্রামা নির্মাণ করে সাড়া ফেলেছেন ইতোমধ্যেই। তার নির্মিত ডকু-ড্রামা ‘কোলাহলের বাইরে’ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়ে দর্শক-প্রশংসা কুড়াতে সমর্থ হয়। শিশু সাংবাদিক হিসেবে কয়েক বছর কাজ করেছেন ইউনিসেফ পরিচালিত বার্তা সংস্থা শিশু প্রকাশে। অজস্র সংকলনে লেখা প্রকাশিত হলেও এর আগে মলাটবদ্ধ মৌলিক গ্রন্থ বেরোয়নি তার। তাই গ্রন্থ হিসেবে ‘সাইলেন্ট কল’-ই প্রথম। হুমায়ূন আহমেদ, আল মাহমুদ, আহসান হাবীব, রফিকুল হক দাদুভাই প্রমুখের সান্নিধ্য পাওয়া আল নাহিয়ান পূর্ণোদ্যমে লিখছেন ‘উন্মাদ’সহ অন্যান্য ফান ও স্যাটায়ার ম্যাগাজিনে। হিউমার ও সিরিয়াসনেস—এই দুই ডানায় ভর করে সাহিত্যের আকাশে উড়তে চান অবিরল।
এতেই নিজেকে আটকে রাখেননি আল নাহিয়ান। তিনি আরও শোনালেন তার এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ‘নাটকে অভিনয় করতে তো সেই সুদূর উড়িষ্যায় চলে গেলাম একবার। ২০১২-তে ইচ্ছে হলো ক্যামেরার পেছনে কাজ করি। নির্মাণ করলাম ‘কোলাহলের বাইরে’, ‘দ্য লস্ট মানিব্যাগ’, ‘ফ্রেমবন্দী শৈশব’-এর মতো কয়েকটি ডকু-ড্রামা ও ভিডিও ফিকশন। টিভিতে সম্প্রচারও হয়েছে এগুলোর কয়েকটি। ফটোগ্রাফিতে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো পেয়ে গেলাম একটা আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ‘পজিটিভ লাইট ফটো কম্পিটিশনে’র হিস্টোরি বেস্ট ফটো হিসেবে নির্বাচিত হলো আমার তোলা ছবি। সবকিছুর পরেও আমার আসল আশ্রয় কলম। ইদানীং অবশ্য কলমের জায়গাটা দখল করে নিয়েছে ‘কিবোর্ড’। ২০১৩ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সাহস পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হলো প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সাইলেন্ট কল’।
নিজের প্রথম বই সম্পর্কে বলছিলেন আল নাহিয়ান, ‘হাইকোর্ট থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছি। মাথায় কাগুজে পোকা খটখট শব্দে কামড়াচ্ছে। বাসে বসেই লিখে ফেললাম অন্তমিল ও ছন্দহীন কয়েক লাইন। গদ্যের ভূমিতে পা দিয়ে একটা আনন্দ ঢুকে গেলো মনে। এ মাটিতে হেঁটে গেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, আহমদ ছফা দেখিয়ে গেছেন পথ। এ পথে হাঁটতে না পারি অন্তত কিছুকাল আগন্তুক হয়ে ঘোরাফেরা করি—তাতেও বিশেষ এক গর্ব আছে। মূলত আমাদের চারদিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সহজাত; কিন্তু সেখান থেকে পাওয়া অনুভূতিগুলো দুর্লভ। তেমনই কিছু অনুভভূতিজাত গল্প মলাটবদ্ধ হয়েছে ‘সাইলেন্ট কল’ বইটিতে।’ তরুণ এই লেখক আল নাহিয়ান পড়ালেখা করছেন মিডিয়া স্টাডিজ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে। জন্মতারিখ ২৩ এপ্রিল। শব্দের কঠিন ভূমিতে শ্রমিক হয়ে আমরণ কাজ করে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে বুকে নিয়ে প্রতিটি নিঃশ্বাস ফেলেন তিনি।
