আইন বিষয়ে শিক্ষার প্রসারে বর্তমানে যে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োজিত রয়েছে তাদের মধ্যে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অগ্রগণ্য এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ সর্বপ্রথম বার কাউন্সিলের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৫ সালের ৭ এপ্রিল দেশে বেসরকারি পর্যায়ে আইন শিক্ষা প্রসারের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব প্রফেসর ড. এবিএম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ছাত্রছাত্রী নিয়ে আইন অনুষদ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চাকরিজীবীদের সুবিধার্থে এখানে দিবা শাখার পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন শাখাতেও পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আইন অনুষদে বর্তমানে যে কোর্সসমূহে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে, সেগুলো হলো :চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) দিবা শাখা, চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) সান্ধ্যকালীন শাখা, দুই বছর মেয়াদি এলএলবি (পাস) প্রোগ্রাম, এক বছর মেয়াদি এলএলএম (মাস্টারস) প্রোগ্রাম, দুই বছর মেয়াদি এলএলএম (মাস্টারস) প্রোগ্রাম। এ ছাড়া অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে দুই বছর মেয়াদি মাস্টারস অব হিউম্যান রাইটস ল প্রোগ্রাম রয়েছে, যা বাংলাদেশে আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ কর্তৃক এই অনুষদের একাডেমিক সিলেবাসগুলো প্রণীত এবং সকল কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত। এই আইন অনুষদের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন ও ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োজিত আছেন সহকারী অধ্যাপক শামীম আরা। এখানে রয়েছেন সুদক্ষ ২৫ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক। আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে এখানে আইনের অধ্যাপক, বিচারপতি, বিচারক, আদালতে কর্মরত আইনজীবী, ব্যারিস্টার প্রমুখের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী শিক্ষক শ্রেণী তৈরি করা হয়েছে। নিয়মিত এখানে বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :৬৬ গ্রিনরোড, ঢাকা। আর কথা বলতে পারেন এই নম্বরে :৯৬১৩৮৬৮, ০১৬১১৩৪৮৩৪৬।
সম্প্রতি এখানে শিশু অধিকার, নারী অধিকার, কনভেনশন বা টর্চার, উত্তরাধিকার, জুডিশিয়াল রিভিউ, সিভিল জাস্টিস সিস্টেম ইত্যাদি বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে। এ সব সেমিনার, ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইনের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারে। এখানে বিভিন্ন আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ইত্যাদিতে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাহ আলম, অধ্যাপক সেডরিক বেল, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার, ভাইস্ প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ মুখপাত্র আব্বাস ফায়েজ, রেড ক্রিসেন্টের বাংলাদেশ মুখপাত্র, হিউম্যান রাইটস কমিশনের এশিয়ান ডেস্কের প্রধানসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার বিজ্ঞানীগণ। ভবিষ্যতের একজন সফল আইনজীবী হিসেবে ছাত্রছাত্রীরা যাতে আইনের যেকোনো ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারে সে জন্য এখানে ‘বার প্রাকটিশনারস ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ নামে একটি কোর্সে রয়েছে। দেশে আইন শিক্ষার বিস্তারে এবং বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের ফলে যে বিপুল সংখ্যক মানসম্পন্ন আইনজীবীর প্রয়োজন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে আসছে।
