কক্সবাজার পৌরসভার ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩৩
কক্সবাজার পৌরসভার ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলররা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনার তদন্তে শুক্রবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তারা হলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিমল দেব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার পৌরসভায় ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা হরিলুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের করা প্রকল্পকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নতুন প্রকল্প দেখিয়ে, আবার ছোট কাজকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অনেকগুণ বড় দেখিয়ে, প্রকৃত খরচের ২০ গুণেরও বেশি খরচ দেখিয়ে পৌরসভার অর্থ হরিলুট করা হচ্ছে। গোপনে টেন্ডার প্রচার দেখিয়েও অর্থ আত্মসাত্ করা হচ্ছে। অভিযোগ এসব ঘটনায় কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলর জড়িত রয়েছেন। তারা নামে-বেনামে ঠিকাদারী ফার্ম খুলে পৌরসভার কাজগুলো ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন এবং উন্নয়নের নামে শতকরা আশি থেকে নব্বই ভাগ, এমনকি শতভাগ অর্থ নিজেরা পকেটস্থ করছেন। এ কারণে কক্সবাজার পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। নালাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় শহরের অধিকাংশ এলাকায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। তবে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজ বিহারী দাশ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কক্সবাজার পৌরসভায় বড় ধরনের কোন দুর্নীতি হয় না। জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার বর্তমান পরিষদ নির্বাচিত হয়েছিল ১১ বছর আগে ২০০২ সালের জুনে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন নির্বাচন এবং নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের গেজেট হলেও নির্বাচিতরা এখনও দায়িত্ব নিতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভা থেকে লোপাটকৃত অর্থে মামলাবাজির মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের শপথ ঠেকিয়ে রেখেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলররা।