আমতলীতে সামান্য বাতাসেই ভেঙে পড়লো নির্মাণাধীন সাইক্লোন শেল্টার

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৭
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামে নির্মাণাধীন বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টারটির ছাদের রেলিংয়ের একাংশ মঙ্গলবার রাতের সামান্য ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন। ওই সাইক্লোন শেল্টারটিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, মঙ্গলবার রাতে কালবৈশাখী ঝড় এবং বৃষ্টি শুরু হলে বিকট শব্দে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের পশ্চিম পাশের রেলিংটি ধসে পড়ে। সকালে ভবনের নির্মাণ শ্রমিকরা তাড়াহুড়ো করে ভাঙা চাঁইগুলো সরিয়ে ফেলে। কর্মরত একজন শ্রমিক জানান, ভবনের পুরো রেলিং জুড়েই ফাটল রয়েছে। এগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণ না করলে বিভিন্নস্থান থেকে খসে পড়া শুরু হবে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙা রেলিংয়ের দু’পাশে পিলারের কাছে সামান্য কয়েকটি রড বেরিয়ে আছে। রেলিংয়ের অন্য কোথাও আয়রন রডের চিহ্ন নেই। অনেকগুলো পিলার নিয়ম মতো পুরু করে ঢালাই না দেয়ায় সেগুলোর রড বেরিয়ে রয়েছে। ঐ বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল আহমেদ খান বলেন, ভবনটি নির্মাণের সময় সিডিউল না মেনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদার সগীর মিয়া স্থানীয় লোকজনকে মালামাল চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন। তাই ভয়ে পরবর্তীতে আর কেউ খোঁজ-খবর নেয়নি। এ ব্যাপারে চাওড়া ইউপির চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাদল বলেন, বৈঠাকাটা গ্রামটি পায়রা নদীর তীরবর্তী। সিডর ও আইলায় এ এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়- জলোচ্ছ্বাসের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এই আশ্রয় কেন্দ্রটির যা অবস্থা তাতে এটিকে মরণ ফাঁদ বলাই ভাল।