সরকারের সঙ্গে আলোচনায় নেতারা অবরোধ প্রশ্নে অনড় সমর্থকরা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫২
আবারও দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে হেফাজতে ইসলাম। মহানবী (সা.) ও ইসলামের অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে সংগঠনটির বেধে দেয়া সময়সীমা শেষ হতে বাকি আর ১০ দিন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এসব দাবি মেনে নেয়া না হলে ৫ মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি রয়েছে। তবে কর্মসূচি ও দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। এনিয়ে সংগঠনটির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ছাড়া পুরো সংগঠন যে কোনো মূল্যে অবরোধ কর্মসূচি পালনে দৃঢ়প্রত্যয়ী বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, স্রেফ ব্লগে মহানবী (সা.) ও ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদ জানাতেই তারা হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই ইস্যুতে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। কটূক্তিকারী ব্লগারদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চান তারা। ১৩ দফার অন্যান্য দাবির বিষয়ে তাদের খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। কর্মী-সমর্থকদের মতে, ৯৫ ভাগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরও অনুভূতি এমনই। সেক্ষেত্রে ১৩ দফা দাবি ও ঢাকা অবরোধের কর্মসূচির ব্যাপারে শীর্ষ নেতারা একদিকে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন, আবার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হুমকিও দিচ্ছেন। দুটো বিষয়ই সমান্তরালে চলায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দ্বিধা-সংশয় কাজ করছে। একই কারণে জনমনেও এক ধরনের সন্দেহ সৃষ্টির উদ্রেক হয়েছে। সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় হেফাজতে ইসলাম মাঠে নেমেছে-কারও কারও মধ্যে এমন সন্দেহও দেখা দিয়েছে। সরকারও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে কৌশলী পথে এগোচ্ছে। তাদের ১৩ দফা দাবি বিবেচনা করা হবে বলে প্রথমদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এসব দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘সংবিধান পরিপন্থী’ আখ্যায়িত করার মাধ্যমে কার্যত তা নাকচ করা হয়েছে। সরকার দাবি মেনে নেবে না, এমনটি ধরে নিয়েই ঢাকা অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। সরকারের সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের আলোচনা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের অনড় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের উত্তেজনা। অন্যদিকে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার বিরুদ্ধে এবার সংগঠিত হয়েছে বেশকিছু নারী সংগঠন, তারা ২৭ এপ্রিল ঢাকায় গণসমাবেশ ডেকেছে। আবার তৈরি পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকরাও মাঠে নামছেন। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি, সরকারের অবস্থান এবং গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিহতের ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিক ও নারী সংগঠনগুলোর গণসমাবেশকে ঘিরে ফের সৃষ্টি হচ্ছে উত্তাপ, উত্তেজনা, শঙ্কা। গত ৬ এপ্রিলের মত এবার সবার দৃষ্টি ৫ মে’র দিকে। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর আহ্বায়ক আব্দুর রব ইউসুফী জানান, ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা-নেত্রীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, সরকার ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করবে না। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচির মাধ্যমেই ঐদিন তারা রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এনিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মী-সমর্থকদের মতপার্থক্য নেই। গত ৬ এপ্রিল রাজধানীর মতিঝিলে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ থেকে সরকারকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য আল্টিমেটাম দেয় হেফাজতে ইসলাম। অন্যথায় ৫ মে ঢাকা অবরোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। ৬ এপ্রিল সমাবেশের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘১৩ দফা দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’ তবে ঢাকা অচল করে দেয়ার হেফাজতে ইসলামের হুমকির জবাবে কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘তাদেরকেই (হেফাজতে ইসলামকে) অচল করে দেয়া হবে।’ দু’দিন পর, বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির বিষয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে ব্লাসফেমি (ধর্ম অবমাননার মত অপরাধ) আইন করার দরকার নেই। এর পক্ষে যুক্তি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতি সমুন্নত রাখার জন্য যথেষ্ট আইন দেশে রয়েছে। অবশ্য এরপরেও হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের কোনো দাবি যদি জনগণের কল্যাণ বয়ে আনে তাহলে তা মেনে নেয়া হবে। হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক এবং দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানসম্মত কিনা তা ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখেছে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত শাখা। ১৩ দফা দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা শেষে গত ৯ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এসব দাবি দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি জানিয়ে পরদিন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৩ দফা দাবির একটিরও সাংবিধানিক ও আইনগত কার্যকারিতা নেই। তাই এসব দাবি পূরণের উদ্যোগ নেয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই সরকারের। একইদিন, অর্থাত্ ১০ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের কাছে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা সম্পর্কে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি কূটনীতিকদের জানান, এসব দাবি বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি ও আইনের পরিপন্থী। কাজেই এমন কোনো দাবিকে সরকার প্রশ্রয় দিতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বহুমতের জাতি গঠনের সময় এ ধরনের বিতর্কিত দাবি মেনে নেয়ার মাধ্যমে সরকার দেশকে ঘড়ির কাঁটার পেছনে ঠেলে দিতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরুতে ১৩ দফা দাবি খতিয়ে দেখে বিবেচনার কথা বললেও পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত শাখার সিদ্ধান্ত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যসহ সরকারের বেশ ক’জন মন্ত্রীর বক্তব্য কার্যত এসব দাবি মেনে না নেয়ারই বার্তা। বিষয়টি বুঝতে পেরে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরাও ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘অরাজনৈতিক’ এই সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ৬ এপ্রিলের সমাবেশের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার তারা বেশ কৌশলে এগোচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবেই কীভাবে রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় তা নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজধানীর আশপাশের জেলাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিদিনই নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিশেষ করে, সারাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার কাজ চলছে। দাবি আদায়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এবং ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে ১১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ঘোষিত মহাসমাবেশও করে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। ইতিমধ্যে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে মহাসমাবেশ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মহাসমাবেশ হয়েছে ফরিদপুরে। আজ শনিবার খুলনায়, ২৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম ও ২৯ এপ্রিল রাজশাহীতে মহাসমাবেশ হবে। আল্টিমেটামের শেষদিনে অর্থাত্ ৩০ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম বগুড়ায় মহাসমাবেশ করবে। তবে একদিকে, সরকারের সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, আবার মহাসমাবেশগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা, দুটোই সমান্তরালে চলার কারণে কর্মী-সমর্থকরা দ্বিধান্বিত। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ যে ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে সেগুলো হলো-(১) সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী সব আইন বাতিল করা; (২) আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুত্সা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস; (৩). শাহবাগের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ‘স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ’ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে জঘন্য কুত্সা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলাম বিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা; (৪). ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যাভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব ‘বিজাতীয়’ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা; (৫). ইসলাম বিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা; (৬). সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতত্পরতা বন্ধ করা; (৭). মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে ‘মূর্তি’ স্থাপন বন্ধ করা; (৮). জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা; (৯). রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা; (১০). পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রীস্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতত্পরতা বন্ধ করা; (১১). রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা; (১২). সারা দেশের কওমি মাদ্রসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং (১৩). অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের মুক্তিদান, দায়ের করা সব ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শান্তি প্রদান। এদিকে, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার বেশিরভাগকেই নারীর অধিকার বিরোধী বলে মনে করছে বেশকিছু নারী সংগঠন। এই ১৩ দফার প্রতিবাদে আগামী ২৭ এপ্রিল ঢাকায় গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে প্রায় ৮০টি বেসরকারি নারী সংগঠন। গণসমাবেশকে সামনে রেখে এসব সংগঠনের নেতৃস্থানীয় একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকরাও মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নারী নেত্রীদের এবং কারো কারো এই অভিযোগ নাকচ করেছে হেফাজতে ইসলাম। বুধবার এক বিবৃতিতে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম বলেছে, তাদের দাবি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ১৩ দফার মধ্যে এমন কোনো দাবি নেই যাতে ইসলামে প্রদত্ত নারীর অধিকার খর্ব হয়। তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে নারীরা কাজ করতে পারবেন না, এমন কোনো দাবি তারা দেননি। হেফাজতে ইসলামের ভাষ্য, তারা শালিনতা রক্ষা করে কর্মস্থলে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বলেছে।