অবরোধে বাধা দিলে প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ করা হবে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৫
১৩ দফা দাবি আদায় ও ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে গতকাল গোয়ালচামট এলাকার ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ৫ তারিখে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে কোন রকম বাধা দিলে প্রতিবাদ নয় প্রতিরোধ করা হবে। বক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ কারণ তিনি বলেছেন মদীনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাতে হবে। তবে তার আগে প্রধানমন্ত্রীকে মদীনা সনদ সম্পর্কে জানতে হবে আর এই সনদ সম্পর্কে জানতে হলে আল্লামা আহম্মেদ শফীকে লাগবে। বক্তারা গত ৬ এপ্রিল লংমার্চের দিনে ভাঙ্গায় ঘটা সহিংসতার জন্য ওই দিনের হরতাল সমর্থকদের দায়ী করেন এবং ওই ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারসহ আটক ১৪ নেতা কর্মীর মুক্তি চান। অন্যথায় সারাদেশ থেকে ভাঙ্গা অভিমুখে লংমার্চ করা হবে বলে বক্তারা হুশিয়ারি দেন। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, আগামী ৫ তারিখের মধ্যে ১৩ দফা মেনে নেন, আগামীতে যারা ক্ষমতায় থাকবে আর দেশ চালাবে তাদের ১৩ দফা মেনেই ক্ষমতায় থাকতে হবে। বক্তারা বলেন, দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহামুদুর রহমান দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের কণ্ঠ। নাস্তিক মুরতাদদের দাবি মেনে তাকে আটক করে সরকার ইসলামের কণ্ঠকে বন্ধ করে দিতে চায়। তারা বলেন, এই সরকার মাহামুদুর রহমানকে শুধু আটক করেনি, তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। মাহামুদুর রহমান আটকের পর থেকে অনশন করেছেন, প্রয়োজনে মাহামুদুর রহমানের জন্য দেশের অগণিত মুসলমান অনশন করবে। বক্তারা অবিলম্বে তাকে মুক্তি ও আমার দেশের প্রেস খুলে দেয়ার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আমরা কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে উত্খাতের জন্য আন্দোলন করছি না। এ আন্দোলন ইসলাম রক্ষার আন্দোলন, ঈমান রক্ষার আন্দোলন। শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকার সমাবেশ স্থলে সকাল থেকেই মুসল্লীরা আসা শুরু করলেও জুমার নামাযের পরে সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। জেলার প্রতিটি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া থেকে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রসহ সাধারণ মুসল্লীরা শ্লোগান দিয়ে সমাবেশে যোগদান করেন। এসময় আগত হেফাজতের নেতাকর্মীরা হাতে জাতীয় পতাকাসহকারে লাঠি বহন করেন। বেলা সাড়ে ১২টায় জুমার আযানের সাথে সাথে মঞ্চের মাইক বন্ধ করে দিয়ে বিরতি ঘোষণা করা হয়। জুমার নামায শেষে বেলা আড়াইটার দিকে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে আসলেও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক নূর হোসেন কাশেমী মঞ্চে আসেন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে। এ সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেন। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. জহুরুল হক। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক ও ঢাকা বিভাগের আহবায়ক মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ৫ তারিখের আগেই ১৩ দফা মেনে নিন। নইলে ৫ তারিখের পরে টের পাবেন এ দেশের মানুষ ঈমান নিয়ে বাঁচতে চায় নাকি নাস্তিকদের সাথে থাকতে চায়। তিনি অবিলম্বে মাহামুদুর রহমানসহ আটক হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ ীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফাইজুল্লাহ বলেন, যদি দাবি মানা না হয় তবে ৫ মে হবে এই সরাকারের শেষদিন। ৫ তারিখের মধ্যে আমাদের ১৩ দফা মেনে নেন, ভাঙ্গার মামলা প্রত্যাহারসহ আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন নইলে সারাদেশ থেকে ফরিদপুর অভিমুখে লংমার্চ করা হবে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাওঃ মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, আগামী ৫ তারিখ সরকারের জন্য গ্রিন সিগনাল না রেড সিগনাল। ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, আমাদের ১৩ দফার ভুল ব্যাখ্যা করছে কিছু লোক। তারা আমাদের মা-বোনদের ভুল বুঝাচ্ছে। আমরা কখোনো বলি নাই, মেয়েরা স্কুল-কলেজে ও কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবে না। ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মহিউদ্দীন আকরাম বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে আল্লামা আহমেদ শফীকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। তাদের সকলকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। আমাদের ১৩ দফা পড়েন, বুঝেন তারপর কথা বলেন। দয়া করে ভুল ব্যাখ্যা দিবেন না।’ ঢাকা মহানগরী যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসমীে বলেন, ১৩ দফা মেনে নিলে আমাদের মা-বোনেরা ঠিকই বের হতে পারবে, কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবে। ১৩ দফা মেনে নিলে দেশে কোন ইভটিজিং ও ধর্ষণ থাকবে না। ঢাকা মহানগর নেতা মুফতী কামরুল ইসলাম বলেন, আগামী ৫ তারিখে যেখানে বাধা দেয়া হবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। ৫ তারিখে হয় শহীদ হব, না হয় ইসলাম কায়েম করে বাড়ি ফিরব। ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, ইসলাম আর ধর্ম নিরপেক্ষতা এক কথা নয়, কোন মুসলিম ধর্ম নিরপেক্ষ হতে পারে না। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা ইসাহাক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মুজিবুর রহমান কুশিয়ারী, মাওলানা মুফতি সাখাওয়াত হোসেন, মাওলানা মুফতী হাবিবুর রহমান, মাওলানা মো. জাফরুল্লাহ, মুফতি মো. ওয়াক্কাস, মাওলানা মো. ইসাহাক, মাওলানা ওহাব, মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা মোজাম্মেল হক, মাওলানা ইব্রাহীম, মাওলানা ইসমাইল, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসরুর, হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। মঞ্চে সমাবেশ চলাকালে বিএনপির কেন্দ ীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ ীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর হেফাজতের সমাবেশে হাত তুলে একাত্মতা ঘোষণা করেন। খাবার সরবরাহ: মুসল্লীদের মাঝে খাবার পানি, কেক, বিস্কুট, তরমুজ, কলা, শশাসহ নানা প্রকার খাবার বিতরণ করছে ফরিদপুর শহর ও কোতয়ালী বিএনপি, জেলা যুবদল ও ছাত্রদল। শহর বিএনপি ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে, কোতয়ালী বিএনপি মুন্সিবাজার বাইপাসে, জেলা যুবদল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে, বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহর সামনে, নতুন বাসস্ট্যান্ডে, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে ও হাজরাতলা মোড়ে এবং জেলা ছাত্রদল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের পৌর অডিটরিয়ামের সামনে মুসল্লীদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করে। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ঈছা বলেন, দলীয়ভাবে খাবার বা পানির কোন আয়োজন করা হয়নি, এটা ব্যক্তিগত তরফ থেকে করেছেন। এছাড়া ফরিদপুর পৌরসভাসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই মুসল্লীদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করেন।