সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৮
সিরিয়ার দু’বছরের গৃহযুদ্ধের ধ্বংসলীলা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দীর্ঘদিনের এ লড়াইয়ে ভস্মীভূত হয়েছে বহু মানুষের বাড়ি-ঘর, বিমান হামলার শিকার হয়েছে রুটির জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষের। নির্যাতিত এবং ধর্ষিত হয়েছে অনেক নারী, খুন হয়েছে শিশুরা, ধ্বংস হয়েছে শহরের পর শহর। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তারা এ কথা বলেছেন। এদিকে জাতিসংঘ-আরব লিগের বিশেষ দূত লাখদার ব্রাহিমি বলেছেন, সিরিয়া সংকট নিরসনে দামেস্ক সরাসরি কোন সহযোগিতা করছে না। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পরিষদকেই এগিয়ে আসতে হবে। জাতিসংঘ প্রধান ত্রাণ কর্মকর্তা ভ্যালেরি আমোস এবং শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ হাই কমিশনার অ্যান্টোনিও গুটারেস নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশই উদ্বাস্তু হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে। তিনি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে সিরিয়ায় এই নৃশংস সংঘাত বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমোস বলেন, সিরিয়া পরিস্থিতি একটি মানবিক বিপর্যয়। সংঘাত অবসানে ব্যর্থতার কারণে এর মূল্য দিচ্ছে সাধারণ জনগণ। বিশ্ব সম্প্রদায় কেন তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আছে সিরীয়দের এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে জানান আমোস। তিনি বলেন, এ সংকট অবসান ঘটানো হবে কিভাবে তা নিয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে নিরাপত্তা পরিষদে। সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘে সিরিয়াবিরোধী প্রস্তাবনায় ভেটো দিচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, সিরিয়ার চলমান লড়াই সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ৭০ লাখ লোকের এখনই ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। দিন যতই যাচ্ছে সহায়তার প্রয়োজন ততই দ্রুত বাড়ছে। সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ-আরব লিগের বিশেষ দূত লাখদার ব্রাহিমী বলেছেন, আলোচনার পথে দামেস্ক সরাসরি অসহযোগিতা করছে। শুক্রবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত বছর থেকেই আমরা দামেস্কের কোন আন্তরিকতা লক্ষ্য করছি না। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদও পদত্যাগ করছেন না। তাই এ মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিষদকে এগিয়ে আসা ছাড়া অন্য কোন গত্যন্তর নেই। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। তারপরও এ সংকট সমাধানে এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। একপর্যায়ে তিনি তার পদত্যাগের বিষয়ে বলেন, এটা গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। আমি কখনোই পদত্যাগ করিনি।